স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র দামে বিক্রি করা হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি। এমন অভিযোগ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার বেচা আলীর ছেলে মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পাউবোর জমি নিজের দাবি করে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে বিক্রি করছেন। তাতে জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন কাটাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
তবে পাউবোর ভাষ্য, পাউবোর জমি পাউবোরই থাকবে। মাঝখান থেকে প্রতারিত হবেন ক্রেতারা। তারা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি যদি কেউ বিক্রি করে থাকেন তাহলে তিনি প্রতারণা করছেন। না জেনে যারা স্ট্যাম্পে জমি কিনছেন তারা প্রতারিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং রাস্তার মাথার প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কিছু জমি রয়েছে। পাউবোর খতিয়ানভুক্ত প্রায় সাড়ে ৮ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন ওয়াব্রাং এলাকার হানিফ। দীর্ঘ সময় দখলে রেখে এসব জমি নিজের দাবি করে স্থানীয়দের মাঝে প্রতি কাঠা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় স্ট্যাম্পমূলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর ক্রেতারা পাউবোর এসব জমিতে নির্মাণ করেছেন পাকা ঘরবাড়ি-দোকানপাট।
পাউবোর জমিতে বসতি স্থাপন করা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জমিটুকু হানিফের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। হানিফ তাদের জমি বিক্রির সময় একটি স্ট্যাম্প দিয়েছেন। তবে জমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিনা তারা মোটেও জানেন না বলে জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধূ জানান, এসব জমি দীর্ঘদিন হানিফকে ভোগ করতে দেখেছি। তিনিও বলেছেন জমিগুলো তার। তাই তার কাছে জমি কিনেছি। রেজিস্ট্রি চাইলে আমাদের একটি স্ট্যাম্প দিয়েছে মাত্র।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সেখানে আমাদেরও জমি রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও জমি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে ঘরবাড়ি হয়েছে, কিন্তু বিক্রি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া তিনি দাবি করেন, ওই জমি তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইজারা নিয়েছেন।
তবে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেকনাফ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, টেকনাফে যাদের কাছে ইজারা ছিল, তার মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। যতটুকু জানি, কারও কাছে এখন পাউবোর জমি ইজারা নেই। পাউবো দীর্ঘ সময়ের জন্য কাউকে জমি ইজারা দেয়নি। নতুন করে ইজারা দেওয়া হচ্ছে না অনেক দিন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি কেউ বিক্রি করছে বা অবৈধ দখলে রেখেছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
