২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ইতিহাসে দিনটি নাইন ইলেভেন নামেই পরিচিত। ২১ বছর আগের এই দিনের আমেরিকাতে চালানো হয়েছিলো ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা।
সেদিন নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারসহ চারটি স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় আল কায়দা। এর পরপরই শুরু হয় আমেরিকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’।
হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তালেবান সরকারের পতন হয়। যদিও সেই তালেবান আবারও ফিরেছে কাবুলের ক্ষমতায়।
রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর), ২১ বছর আগের নাইন ইলেভেন হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
ওই হামলায় নিহতদের স্মরণে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকা, পেনসিলভেনিয়া পার্ক ও পেন্টাগনে নানা আয়োজন করা হয়েছে।
ওই দিন বিমান দিয়ে হামলা চালানো হয় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ভবনে। প্রথম বিমানটি আঘাত হানে নর্থ টাওয়ারে। দ্বিতীয় বিমানটি সাউথ টাওয়ারে।
দুটি ভবনেই আগুন ধরে যায়। ভবন দুটির ওপর তলায় মানুষজন আটকা পড়ে যান। শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। দুটি টাওয়ার ভবনই ছিল ১১০ তলা।
মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে দুটি ভবনই বিশাল ধুলার ঝড় তুলে মাটিতে ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
দুই দশক আগের ওই হামলায় জড়িত চারটি বিমান ছিনতাইকারী ১৯ জন আল কায়েদার মধ্যে ১৫ জনই সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন।
তবে, ৯/১১ হামলায় সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সৌদি সরকার বরাবরই এই হামলায় কোনো ধরনের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
ধারণা করা হয়, হামলাকারীদের আর্থিক মদদ দিয়েছিলো ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদা। এরপর লাদেনকে নির্মূল করতে আফগানিস্তানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাইন ইলেভেনের ঘটনার পর ‘শত্রুদের’ বিরুদ্ধে মার্কিনীদের যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা আজও চলছে।
ওসামা বিন লাদেনের যে ছোট বাহিনী আফ্রিকায় মার্কিন দূতাবাসে হামলা ও ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বোমা ফেলেছিল তারাই টুইন টাওয়ারে হামলা চালায়।
বলা হচ্ছে, এসব হামলা চালিয়ে আমেরিকাকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করিয়েছিলো লাদেন। কিন্তু, ২০ বছর যুদ্ধ করে ক্লান্ত হওয়ার পরও তা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এই দীর্ঘ বছরগুলোয় প্রেসিডেন্ট বুশ থেকে শুরু করে ট্রাম্প পর্যন্ত সবাই এমন বিরক্তিকর যুদ্ধের শেষ চেয়েছিলেন। অবশেষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা সরালেন।
যে যুদ্ধের শুরুটা মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল তার শেষটা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়ে গেছে। আল কায়েদার শীর্ষ নেতাদের একে একে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে বন্দি আছেন।
গত জুলাইয়ে মার্কিন সেনাদের ড্রোন হামলায় আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরিও নিহত হন। তবুও যুদ্ধ শেষ হলো না।
এখন বিশ্বব্যাপী তাদের আইএস ও অন্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। যার অর্থ প্রতিদিনই যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমেরিকাকে। যা শেষ হবার কোন লক্ষণ নেই।
