ফিরেছে শ্রীলঙ্কান ব্র্যান্ড ক্রিকেট

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৬ এএম

ফাইনাল শেষে দুবাইয়ের কালো আকাশ আতশবাজির আলো ঝলমলে করে তুলেছে। সেই আলোর রোশনাই আরব সাগরের অন্যপ্রান্তের ছোট্ট দ্বীপকেও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এখন আর আলোর অভাব নেই শ্রীলঙ্কায়। এখন আলো জ¦ালতে আর ডিজেলের দরকার হবে না দেশটির! শূন্য থেকে সেরা হওয়া তারকারাজি যে বাড়ি ফিরছে। সেই তারকারাজির মধ্যমণি দাসুন শানাকা। যার হাতে থাকবে এক সোনালি ট্রফি। এ ট্রফি এর আগে পাঁচবার জিতেছে শ্রীলঙ্কা। শেষবার ২০১৪ সাল। এরপর অবসর নিয়ে ইতিহাস হয়ে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারা-মাহেলা জয়াবর্ধনেরা। সেই সঙ্গে ক্রিকেটে লঙ্কান সাফল্যও যেন ইতিহাস হয়ে যায়। আট বছর খুঁজেফেরা সেই সাফল্য এতদিনে পেল লঙ্কানরা। এশিয়া কাপ দিয়ে আবার শ্রেষ্ঠত্বে তারা। শানাকার নেতৃত্বে একদল প্রচন্ড শক্ত মানসিকতার তরুণ ফিরিয়ে এনেছেন ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কান ব্র্যান্ড।

নিশ্চিতভাবেই খুশির জোয়ারে ভাসছে শ্রীলঙ্কার মানুষ। এ খুশি তারা দেখেনি গত কয়েক মাস। এ বছর মাঝামাঝি থেকেই তো খাবার-চিকিৎসা-বিদ্যুৎ সবকিছুতেই কমতি ছিল তাদের। হাসির উপলক্ষের তো প্রশ্নই আসে না। ফাইনালের আগে তাই এ মানুষদের জন্য শিরোপা জিততে চেয়েছিলেন শানাকা। টস হেরেও বলেছিলেন আমরা জিততে পারি। কাল কথা রাখলেন তারা অবিশ্বাস্য এক পরিসংখ্যানের সঙ্গে। টি-টোয়েন্টিতে কাল ২০১তম বারের মতো প্রথম ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারাল কোনো দল। এরপরও টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ১৭০ বা তার বেশি রান এলো দশমবারের মতো। আর এই ১০ বারের মধ্যে সাতবারই কীর্তিটা করেছে শ্রীলঙ্কা এবং সবই পাকিস্তানের বিপক্ষে।

অথচ খোদ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটারদের বিশ্বাস ছিল না যে ১৭০ রান করবেন। ভানুকা রাজাপাকশে ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা যখন জুটিবদ্ধ হন, তারা ১৪০-১৫০ রান করার কথা ভাবছিলেন। ম্যাচ শেষে রাজাপাকশে বলেন, ‘৫৮ রান ৫ উইকেট পড়ার পরও আমরা ইতিবাচক ছিলাম। আমরা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছি যে আমরা ইতিবাচক দল। যখন ওয়ানিন্দু এলো আমরা কথা বলছিলাম ওদের বিপক্ষে ব্যাকফুটে না থেকে আক্রমণাত্মক খেলার। এ রোলটা ছিল ওয়ানিন্দুর। ভাগ্যক্রমে আমিও আক্রমণাত্মক খেলতে পেরেছি। ১০ ওভারের সময় কোচ যখন জিজ্ঞাসা করল কত রান হতে পারে, আমি বলেছিলাম ১৪০। কিন্তু সৌভাগ্য যে আমরা ১৭০ করেছি।’

ঠিক একই সুর অধিনায়ক দাসুন শানাকার। সমর্থকদের ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করে অধিনায়ক জানান, ‘শুরুতেই দেশের মানুষকে গর্বিত করতে পেরে আমরা খুশি। আসলে এভাবেই বড় দল তৈরি হয়। যেভাবে আমরা শুরু করেছিলাম ভালো ছিল না। কিন্তু এ তরুণ ছেলেরা পরিস্থিতি বুঝে খেলেছে। যেভাবে ফিরে এসেছে এটা অসাধারণ। আর ১৭০ রান যখন হয় তখনই আমাদের একটা সেফ সাইড হয়ে যায়। কারণ ১৫০-১৬০ রান তাড়া করা যায় কিন্তু ১৭০ রান ফাইনালে সবসময় তাড়া করা কঠিন।’

এদিকে হেরে যাওয়া অধিনায়ক বাবর আজম জানালেন ব্যাটিংয়েই ভুলটা হয়েছে তাদের। আর ১৫-২০ রান বেশি দিয়ে আগেই ব্যাকফুটে পড়ে যান, ‘এ পিচে আসলে সেট হলে যেভাবে ইচ্ছে আপনি খেলতে পারেন। কিন্তু আমরা একটা মাত্র জুটি গড়েছি। ব্যাটারদের এই ভুলে হারতে হলো। এছাড়া বোলিংটা শেষদিকে খুব বাজে ছিল। ক্যাচ পড়েছে। সব মিলিয়ে ফাইনালে খেলার মতো পারফরম্যান্স আমরা করতে পারিনি।’

শেষবার ২০১৪ এশিয়া কাপ শিরোপা জিতে ওই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এবারও একই বছর এশিয়া ও বিশ্বকাপ। লঙ্কা কি পারবে ইতিহাস ফেরাতে!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত