সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পিলারে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বালুবাহী নৌযান বাল্কহেডের ধাক্কা লেগেছে। ধাক্কা লাগার পর একটি যমুনা নদীতে ডুবে গেছে, অন্যটি বিকল হয়ে আটকা পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে এ দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন।
এর আগে গত রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে বালু নিয়ে মানিকগঞ্জ যাওয়ার পথে সেতুর ৯ নম্বর পিলারের সঙ্গে একটি বাল্কহেডের ধাক্কা লাগে। এতে বাল্কহেডটি ঘটনাস্থলে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ওই বাল্কহেডের শ্রমিক আবুল শিকদার এখনো নিখোঁজ।
গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রথম সেতুর ১০ নম্বর পিলারের ধাক্কা লেগে বালুবোঝাই যে বাল্কহেডটি ডুবে যায় সেটি সিরাজগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল। বাল্কহেডটির ৫ শ্রমিক লাইফ জ্যাকেটের সাহায্যে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এর এক ঘণ্টা পর ৯ নম্বর পিলারে ধাক্কা লাগে আরেকটি বাল্কহেডের। ফরিদপুরের সিএনবি ঘাটের দিকে যাচ্ছিল এটি। বাল্কহেডটি বিকল হয়ে সেখানেই আটকা পড়ে।
এ বিষয়ে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের শ্রমিক আক্তার হোসেন জানান, নদীতে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর তাদের বাল্কহেডটি ডুবে যায়। তারা ৫ জন সাঁতার কেটে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রান্ধুনীবাড়ি চরে গিয়ে ওঠেন। তারা সুস্থ আছেন।
বাল্কহেডডুবির বিষয়টি নৌ-পুলিশকে জানানো হয়েছে কি না তা জানতে চাইলে আক্তার হোসেন বলেন, ‘নৌ-পুলিশকে জানালে সমস্যা হবে। তারা আমাদের আটকে রেখে টাকাপয়সা আদায় করবে। তাই এখান থেকেই চলে যাব। মহাজন পরে তার বাল্কহেড অন্যভাবে উদ্ধার করবেন।’
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এই স্রোতের টানে বাল্কহেড দুটি নিয়ন্ত্রণ হারালে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড়ের দুটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পী বলেন, সকালে সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মনজুর হোসেন বঙ্গবন্ধু সেতু পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি সবকিছু দেখছেন। মঙ্গলবারের ডুবে যাওয়া বাল্কহেড সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করে মনজুর বলেন, ‘একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড আটকে আছে জানতে পেরেছি।’
