জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সেবা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসক- নার্সদের ঢাকামুখী না হয়ে মানবিক সেবাদানের পরামর্শ দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেলাইজড হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমেন্ট দিয়েছি, সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি। তারপরও অনেক ডাক্তার ও নার্স জেলা, উপজেলা পর্যায়ে যেতে চান না। তাদের রাজধানীতেই থাকতে হবে। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আশাকরি, আমাদের ডাক্তাররা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখবে এবং চিকিৎসা সেবা দিতে উপজেলা পর্যায়ে যাবেন।
তিনি বলেন, উপজেলার হাসপাতালগুলো মাত্র ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ছিল। আমরা জনসংখ্যা ও রোগীর হিসেব নিয়ে অনেক হাসপাতাল ১০০ শয্যার করে দিয়েছি। জেলার হাসপাতালগুলো ১০০ শয্যার ছিল। রোগী কেমন আসে সেটার হিসেব করে কোথাও ২৫০ শয্যার এবং বড় বড় শহরগুলোতে ৫০০ শয্যা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবার আরও সুযোগ করে দিয়েছি।
সরকার প্রধান বলেন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু হওয়ায় বছরে ৩৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
বিএসএমএমইউ’র অধীনে এ হাসপাতালে থাকছে প্রায় সাড়ে ৭০০ বেড। এর মধ্যে থাকবে ১০০টি আইসিইউ ও ১০০টি ইমার্জেন্সি বেড। কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশেষ এ হাসপাতালের চিকিৎসা খরচও থাকবে জনসাধারণের হাতের নাগালে।
এক ছাদের নিচে সর্বাধুনিক সব সেবা পাওয়া যাবে। একই হাসপাতালে বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসা চলবে। এ ধারণা থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি। ১৩ তলাবিশিষ্ট হাসপাতালটির রয়েছে দ্বিতল বেজমেন্ট। ৭৫০ শয্যার হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে থাকছে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ১০০ শয্যার আইসিইউ।
জরুরি বিভাগে থাকবে ১০০ শয্যা, ভিভিআইপি, ভিআইপি কেবিন। ডিল্যাক্স শয্যা ২৫টি। হাসপাতালটিতে এক্স-রে, এমআরআই, সিটি-স্ক্যানসহ অত্যাধুনিক সব ডায়াগনস্টিক সুবিধাও রাখা হয়েছে। আছে পাঁচটি স্পেশালাইজড সেন্টার। জরুরি বিভাগ, কার্ডিয়াক সেন্টার, লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপন ইউনিট এবং মা ও শিশুর ইউনিট। আর সর্বাধুনিক রোবোটিক সার্জারি।
