দায় পরিশোধে শতকোটি টাকা দিচ্ছে এস আলম গ্রুপ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১১ এএম

প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় ব্যবস্থাপনা খাতে বেশি ব্যয় করে ফেলায় জীবন বীমা খাতের কোম্পানি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স তহবিল সংকটে ভুগছে। এর ফলে বীমা দাবি পরিশোধে সংকটে পড়ে কোম্পানিটি। তবে মালিকানা পরিবর্তন হওয়ায় বীমা দাবি পরিশোধে কোম্পানিটির সক্ষমতা বাড়তে শুরু করেছে। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স অধিগ্রহণ করা এস আলম গ্রুপ বীমা দাবি পরিশোধে বিনা সুদে ১০০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে, যা দিয়ে প্রতি মাসে অন্তত ১০ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করছে কোম্পানিটি।  

পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে মালিকানায় থাকায় এস আলম গ্রুপ সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। চলতি বছরের ১৪ মে থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে এসেছেন বাংলাদেশে ইসলামী বীমা ব্যবসার অন্যতম উদ্যোক্তা মেট্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফখরুল ইসলাম। তিনি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোক্তা-পরিচালক ছিলেন। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও।

গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ, কোম্পানির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়িক ভাবে পদ্মা লাইফকে লাভজনক করতে নিজের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন দেশ রূপান্তরকে। তিনি জানান, বীমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মালিকপক্ষ এস আলম গ্রুপ স্বল্প সময়ের জন্য পদ্মা লাইফকে ১০০ কোটি টাকা বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই টাকা দিয়ে আমরা মোট বীমা দাবির অর্ধেক পরিশোধ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী বছরের জুনের মধ্যে বাকি অর্ধেক পরিশোধ করতে পারব বলে বিশ^াস করি। ২০২৩ সালের জুনের পর আর কোনো বীমা দাবি বকেয়া থাকবে না।

তিনি জানান, নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাসে ৫ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। চলতি মাসের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা থেকে প্রথম ধাপে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে। আগামী বছর রিনিউয়াল প্রিমিয়াম দিয়েই আমরা বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারব।

ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতপক্ষে পদ্মা লাইফের কাছে গ্রাহকদের পরিশোধযোগ্য বীমা দাবি কত তা এখনো সঠিকভাবে নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। আগের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনেক কিছুই নথিভুক্ত করে যায়নি। কিন্তু এখন মাঠপর্যায় থেকে গ্রাহকরা বীমা দাবি নিয়ে আসছেন। এসব গ্রাহকের কাছে সঠিক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু আমাদের তথ্যভা-ারে তা নথিভুক্ত নেই। গ্রাহকদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এখন আমরা এসব দাবি নথিভুক্ত করছি। যেহেতু গ্রাহকদের কোনো দোষ নেই। তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। সেহেতু আমরা তাদের টাকা ফেরত দেব।

কোম্পনির বর্তমান ব্যবসা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পদ্মা ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছরের ছয় মাসেও আমরা গত বছরের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি ব্যবসা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে নিয়োগসহ কোম্পানি পুনর্গঠন নিয়ে কাজ করেছি। এখন আশা করছি ২০২৩ সালে কোম্পানির নিয়মিত আয় দিয়েই আমরা খরচ মেটাতে পারব। প্রথমবর্ষ প্রিমিয়াম শুধুমাত্র কমিশন এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ খরচ হবে। রিনিউয়াল প্রিমিয়াম শতভাগ ক্লেইম পেমেন্ট অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। আমরা অ্যাকাউন্টগুলো আলাদা করে ফেলেছি। এটি অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ পদ্মা লাইফ দেশের প্রথম সারির বীমা কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিশ্বাস করি।

গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকা ফিরে পেলেই পদ্মা লাইফের হারানো ভাবমূর্তি ফিরে আসবে, আস্থাও বাড়বে বলে মনে করেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ নিজেদের তহবিল থেকে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করছে, বীমা খাতে এটি নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, আমরা যখন কোম্পানির দায়িত্ব নিয়েছি তখন চেয়ারম্যান-পরিচালকদের বিরুদ্ধে ৪৬টি মামলা ছিল। দাবি পরিশোধ করে বেশিরভাগ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তারা আস্থা পাচ্ছেন। গত আড়াই মাসে নতুন করে কোনো মামলা হয়নি। মাঠ কর্মকর্তারা অফিস করছেন। তারা গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পর্যায়ক্রমে বীমা দাবি পরিশোধের আশ্বাস দিচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত