কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দুই শিক্ষককে গতকাল সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় পরে রাতে মামলার আসামি করা হয়। একই রাতে পিয়ন সুজনকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়া।
এ মামলায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবায়ের ইসলামকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এজাহার নামীয় আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নতুন করে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রয়োজন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্ন ফাঁসের ‘গুজব’ ওঠায় নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্যাগ কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মার নজরে আনেন। এরপর পরীক্ষা শেষে তারা কেন্দ্র সচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের কক্ষে গিয়ে এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রথমে তিনি ( প্রধান শিক্ষক) সদুত্তর দিতে না পারলেও পরে অধিকতর জিজ্ঞাসায় তিনি স্বীকার করেন যে তার কাছে পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্ন রয়েছে। পরে তিনি সবার উপস্থিতিতে তার রুমের বুক শেলফের নিচের তাকে রাখা একটি কাপড়ের ব্যাগের ভেতর থেকে কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বের করে দেন।
মামলার বাদী ও ওই কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা এজাহারে উল্লেখ করেন, ব্যাগের ভেতর থেকে গণিত (আবশ্যিক), উচ্চতর গণিত, রসায়ন, কৃষি, জীববিজ্ঞান ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট বের করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেট ছাড়া বাকি সবগুলোর মুখ খোলা ছিল। তখন ট্যাগ কর্মকর্তার নির্দেশে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদ মো. আতিক নুর উল্লেখিত বিষয়ের প্রশ্নপত্র জব্দ করেন এবং কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান শিক্ষক জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু হানিফের সহায়তায় কৌশলে আগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে জব্দকৃত প্রশ্নপত্রগুলো নিয়ে আসেন। এরপর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক জোবায়ের হোসেন ও অফিস সহকারী আবু হানিফসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের সহযোগিতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন।
প্রশ্ন ফাঁসের খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী ছুটে যান দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম, সচিব প্রফেসর মো. জহির উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পান।
এ ঘটনার পর বুধবার সকালে চার বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ড।
