স্থাপত্যশৈলীর আন্তর্জাতিক সম্মাননা আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারে ভূষিত দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এ বছর আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের দুটি প্রকল্প।
বাংলাদেশের পক্ষে এ বছর সম্মানজনক এই পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছে ঝিনাইদহের আরবান রিভার স্পেসেস প্রকল্প এবং টেকনাফের রিফিউজি রেসপন্স প্রোগ্রামের নারীবান্ধব কমিউনিটি স্পেস ‘শান্তিখানা’। ঝিনাইদহের প্রকল্পটির স্থপতিরা হলেন খন্দকার হাসিবুল কবির ও সুহাইলি ফারজানা এবং টেকনাফের প্রকল্পটির স্থপতিরা হলেন রিজভি হাসান, খাজা ফাতমি ও সাদ বেন মোস্তফা।
এক বিজ্ঞপ্তিতে আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (একেডিএন) জানায়, বাংলাদেশের দুটি এবং ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লেবানন ও সেনেগালের একটি করে মোট ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে পুরস্কারের ১০ লাখ ডলার ভাগ করে দেওয়া হবে। ওমানের রাজধানী মাসকাটে আগা খান সংগীত পুরস্কারের সঙ্গে একযোগে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশের দুই প্রকল্প : ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর তীরে পরিত্যক্ত ময়লার ভাগাড়কে একটি আকর্ষণীয় বহুমুখী স্থানে পরিণত করা হয়েছে আরবান রিভার স্পেসেস প্রকল্পের মাধ্যমে। ইটের গাঁথুনি এবং চমৎকার নকশার হাঁটাপথ, দৃষ্টিনন্দন ঘাট ও বসার জায়গা বদলে দিয়েছে নদীপাড়ের চেহারা। ২০১৯ সালে সমাপ্ত প্রকল্পটি স্থানীয় লোকজনের কাছে বেশ আকর্ষণীয় একটি স্থান হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে অস্থায়ীভাবে নির্মিত কমিউনিটি স্পেসের নাম শান্তিখানা। টেকনাফে ক্যাম্প ফোরের বর্ধিত অংশে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েশিশুদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এসব নকশা করা হয়।
এর আগেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকল্প আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার অর্জন করে। ২০১৯ সালে দক্ষিণ কানারচরে স্থপতি সাইফ উল হকের নকশা করা আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রকল্প এ পুরস্কার পায়। ২০১৬ সালে সম্মানজনক আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারে ভূষিত হয় মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা ঢাকার বাইত উর রউফ মসজিদ এবং কাশেফ চৌধুরীর করা গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার।
১৯৭৭ সালে ইসমাইলি শিয়া গোত্রের আধ্যাত্মিক নেতা আগা খান এই স্থাপত্য পুরস্কার প্রবর্তন করেন। মুসলিম অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো নির্মাণশৈলীকে উৎসাহিত করতে এই পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়।
