ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০১ এএম

ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে ১৬ নেত্রীকে স্থায়ী বহিষ্কারের প্রতিবাদে ঘোষিত আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন বহিষ্কৃত নেত্রীরা।

গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়ে অনশনে বসতে তারা ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়েও যান। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পর নেত্রীরা বের হয়ে জানান, সিনিয়র নেতাদের আশ্বাসে ঘোষিত কর্মসূচি পালন না করেই কলেজে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।  

অনশনের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কলেজ ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা অনশন বাতিল করেছি। এখন আমাদের নতুন কোনো কর্মসূচি নেই। কেন অনশন বাতিল করলেন? কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন কে ছিলেন? এ সব বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও  দুপক্ষের মারামারির ঘটনায় গত রবিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে কলেজ ছাত্রলীগের ১২ নেত্রী ও ৪ কর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। গত রবিবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।  

বহিষ্কৃত নেত্রীরা হলেন সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি, সাদিয়া জাহান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী এবং কর্মীরা হলেন রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।    

এই নেতাকর্মীদের দাবি কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। দোষী হওয়ার পরেও সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার না করে তাদের অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।   

সোমবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত সহসভাপতি সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘আমাদের অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া আমাদের কেন বহিষ্কার? আগে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে বহিষ্কার করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার অভিযোগের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা কেন পার পেয়ে যাচ্ছে’?  

এ সময় তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে অনশনের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ের দিকে রওনা দেন বহিষ্কৃতরা। তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকার পর ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় তাদের। পরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের আশ্বাসে অনশন থেকে সরে আসেন তারা। 

উল্লেখ্য, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার সিট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস। এরপরই তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে পরের দিন ২৫ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে ইডেন কলেজের অডিটোরিয়ামের সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন ১০ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত