করতোয়ায় নৌকাডুবি

ঘাট ইজারাদারের দায় দেখছে জেলা প্রশাসনের কমিটি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৭ এএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় খেয়াঘাটের ইজারাদারকে দায়ী করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে নৌকাডুবির জন্য মাঝির অদক্ষতা এবং যাত্রীদের অসচেতনতা দায়ী করেছে কমিটি। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পাঁচ দফা সুপারিশ রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রবিবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায় প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছেন। আজ (সোমবার) ওই প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, নৌকাডুবির ওই ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসও পৃথকভাবে তদন্ত করেছে। তারা নিজ নিজ কর্র্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তিনটি রিপোর্ট জমা হওয়ার পর যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে মোট ১০৫ জন যাত্রী উঠেছিল। নৌকাডুবির পর সাঁতরে পাড়ে ওঠে ছয়জন, জীবিত উদ্ধার হয় ২৭ জন, ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার হয় এবং এখনো তিনজন নিখোঁজ। তবে গতকাল থেকে ওই তিনজনকে উদ্ধারের অভিযান কিছুটা সীমিত করা হয়েছে। 

দুর্ঘটনার পর টানা আট দিন ধরে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের ৭০ সদস্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এলেও গতকাল থেকে শুধু বোদা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

বোদা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, সোমবার থেকে আমাদের ৭ জন সদস্য নদীর বালুচরগুলোতে মরদেহ খোঁজার কাজ শুরু করেছেন। নদীর পানি কমে যাওয়ায় এখন স্পিডবোট ও নৌকার প্রয়োজন হচ্ছে না। নদীতে হেঁটে হেঁটে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের ত্রিস্রোতা মহাপীঠধাম শ্রীশ্রী বোদেশ্বরী শক্তিপীঠ মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য প্রতিবছর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়। আরাধনার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবীকে। সেখানে এক দিনে অন্তত ১০ হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন থেকে বড়শশী ইউনিয়নে মন্দিরে যেতে আউলিয়ার ঘাট দিয়ে করতোয়া নদী পার হতে হয়। এবার মহালয়ার দিনে আউলিয়ার ঘাটে সকাল থেকে পারাপার হয় কয়েকশ মানুষ। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় দুপুরে একসঙ্গে অনেকে মন্দিরে যেতে ঘাটে আসে। ভিড়ের মধ্যে সেখানে ছিলেন মাত্র তিনজন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ঘাটে দায়িত্বে ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সাতজন সদস্য। মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ঘাটে ছিলেন। তারা ওই নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে মৌখিকভাবে নিষেধ করলেও সরাসরি বাধা দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত