দর্শকের অপেক্ষার পালা শেষ হতে যাচ্ছে। তিনটি প্রতীক্ষিত ও তারকাবহুল সিনেমা মুক্তির ঘোষণা এলো পর পর। প্রথমেই বলা যাক ‘ব্ল্যাক ওয়ার’-এর কথা। ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমার পর প্রেক্ষাগৃহে আসছে এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘ব্ল্যাক ওয়ার’। ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি সিনেমাটি মুক্তি পাবে। গত সোমবার রাতে ‘ব্ল্যাক ওয়ার’-এর মোশন পোস্টার প্রকাশ করে এর মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ছবির নায়ক আরিফিন শুভ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘অবশেষে দর্শকদের ব্ল্যাক ওয়ারের মুক্তির তারিখ জানাতে পেরে খুব হালকাবোধ করছি। সিনেমাটি যে দর্শকদের পুরোপুরি তৃপ্তি মেটাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। গল্পই বলে দেবে সিনেমার নাম কেন ব্ল্যাক ওয়ার এবং মিশন এক্সট্রিম রাখা হয়েছে।’ সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক ও পরিচালক সানী সানোয়ার বলেন, ‘চলতি বছর ব্ল্যাক ওয়ার মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কাজগুলো সম্পন্ন করতে না পারায় একটু সময় নিতে হলো। আমরা চাই দর্শককে পরিপূর্ণ সিনেমাটি দেখাতে। নতুন বছরের প্রথম শুক্রবারেই সিনেমাটি মহাসমারোহে মুক্তি দিতে যাচ্ছি।’ কপ ক্রিয়েশন প্রযোজিত সিনেমাটি সানী সানোয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘৬ জানুয়ারি দেশে মুক্তি দেওয়ার পর আমরা ধারাবাহিকভাবে বিশে^র অন্যান্য দেশেও ব্ল্যাক ওয়ার মুক্তি দেব। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫টি দেশে মুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে আছে।’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, তাসকিন রহমান, সাদিয়া নাবিলা, সুমিত সেনগুপ্ত, মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, মনোজ প্রামাণিক, শতাব্দী ওয়াদুদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, হাসান ইমাম, লায়লা ইমাম, ইরেশ যাকের, মাজনুন মিজান, সুদীপ বিশ্বাস, সৈয়দ আরেফ, খালিদুর রহমান রুমী, ইমরান সওদাগর, খশরু পারভেজ প্রমুখ।
মুক্তি পাচ্ছে নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনীত ছয় বছর আগের সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’ও। গুণী নির্মাতা নুরুল আলম আতিকের এই সিনেমা সিনেমার শ্যুটিং আগে শেষ হলেও নানা কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি। অবশেষে সব জটিলতা কাটিয়ে দর্শকের সামনে আসতে চলেছে ছবিটি। এ তথ্য নিশ্চিত করে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আইয়ের এমডি শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গেই জানাচ্ছি “পেয়ারার সুবাস” মুক্তি পাচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে। ছবিটি দেখার জন্য দর্শক অপেক্ষা করছেন অনেক দিন ধরেই। আশা করছি, গুণী নির্মাতা নুরুল আলম আতিকের সিনেমা দিয়ে জয়া আহসান আরও একবার বাজিমাত করবেন।’ নির্মাতা নুরুল আলম আতিকও ছবিটি মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দর্শকের কাছে “পেয়ারার সুবাস” পৌঁছে দিতে প্রস্তুত। ছবিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হবে জানুয়ারিতে।’ ছবিতে অভিনয় করা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জয়া আহসান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ছবিটি নিয়ে বলতে পারি, এটা একটা দুর্ধর্ষ ছবি। আতিক যে বিষয়টি নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছে, এ ধরনের বিষয় সাধারণত কেউ স্পর্শ করে না। কেউ সাহস দেখায় না। সেই হিসেবে আতিক এমন একটা বিষয় নিয়ে ছবি নির্মাণের সাহস দেখিয়েছে। ছবিটি বৈবাহিক সম্পর্কের গল্প নিয়ে নির্মিত। কেমন হয়েছে, সেটা দর্শক ভালো বলতে পারবেন।’ এই ছবির শ্যুটিং হয়েছে সিরাজগঞ্জ ও পাবনায়। ‘পেয়ারার সুবাস’ ছবিতে জয়া ছাড়া অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, আহমেদ রুবেলসহ অনেকেই।
জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’ নিয়েও দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। কারণ ছবিটি ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র সাড়াজাগানো গল্প ‘কাজলরেখা’ অবলম্বনে নির্মিত। এরই মধ্যে সিনেমাটির শ্যুটিং শেষ হয়েছে। সিনেমাটি মুক্তি পাবে ফেব্রুয়ারিতে। পরিচালক সেলিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ‘কাজলরেখা’র শ্যুটিং শেষ করলাম। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি মুক্তি দিতে চাই।’ ছবিটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ বিন্যাস করেছেন পরিচালক নিজেই। এর গল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘মৈমনসিংহ গীতিকার ‘কাজলরেখা’ পালা থেকে এটি নির্মাণ করছি। ওই সময়ে নয় বছর বয়স হলেই সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ে হতো। তেমনি আমাদের নায়িকা কাজলরেখার বয়স যখন নয়, তখন এক নতুন গল্প তৈরি হয়।’ ‘কাজলরেখা’ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা। প্রায় ১১ বছর ধরে গল্পটি নিয়ে কাজ করছেন সেলিম। সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, শরিফুল রাজ, মন্দিরা চক্রবর্তী, ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালাম, খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মানসহ অনেককে। জানা গেছে, বাঙালির ঐহিত্যের সঙ্গে তখনকার স্থাপত্যরীতি, পোশাক কেমন ছিল, তাও উঠে আসবে চলচ্চিত্রে। সেই সময়কে ধরতে বেশ সময় নিয়েই পরিকল্পনা করে ছবিটির কাজ শেষ করলেন সেলিম।
