সেতু ধ্বংসের প্রতিশোধে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৫ এএম

ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক মিসাইল হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী ইউরোপের বৃহত্তম রেল ও সড়ক সেতুতে ভয়াবহ হামলাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সন্ত্রাসী হামলা বলে ঘোষণা করার পর গতকাল সোমবার সকাল থেকে রাজধানী কিয়েভসহ পুরো ইউক্রেনে এই হামলা শুরু হয়। এমনকি কিয়েভের জার্মান দূতাবাসেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক প্রধান বলেছেন গতকাল সোমবার ইউক্রেনজুড়ে ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি এসব হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে। মূলত ক্রিমিয়ার সেতুতে হামলা ও বিস্ফোরণের জবাবে রাশিয়া প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ক্রিমিয়ার সেতুতে হওয়া বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী হামলা বলে ঘোষণা করার পর রাশিয়া সোমবার সকালে আপাত প্রতিশোধমূলক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে শহরগুলোতে বোমাবর্ষণ করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের প্রথম দিকে রাশিয়া এটি দখল করার প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করার পর থেকে সোমবার ইউক্রেনের রাজধানীতে হওয়া এটিই সবচেয়ে তীব্র হামলা। রাজধানী কিয়েভের পাশাপাশি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ, টারনোপিল ও জাইটোমির এবং মধ্য ইউক্রেনের ডিনিপ্রো ও ক্রেমেনচুকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

টেলিগ্রাম ম্যাসেজিং অ্যাপে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘তারা (রাশিয়া) আমাদের ধ্বংস করার এবং পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে, জাপোরিঝিয়াতে নিজেদের বাড়িতে ঘুমন্ত লোকদের ধ্বংস করছে। ডিনিপ্রো এবং কিয়েভে কাজ করতে যাওয়া লোকদের হত্যা করছে। বিমান হামলার সাইরেন ইউক্রেনজুড়ে কমছে না। সর্বত্রই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করছে।’

রয়টার্স বলছে, কিয়েভের ব্যস্ততম সড়ক জংশনগুলোর একটিতে মিসাইল হামলার পর একটি বিশাল গর্ত দেখা দিয়েছে। সেখানে গাড়ি ধ্বংস হয়েছে, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জরুরি কর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। গর্তের কাছে দুটি গাড়ি এবং একটি ভ্যান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া হামলার পর কিয়েভের প্রধান তারাস শেভচেঙ্কো ইউনিভার্সিটির ভবনের জানালা উড়ে গেছে।  

সোশ্যাল মিডিয়াতে দেওয়া এক পোস্টে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন, ‘রাজধানী রুশ সন্ত্রাসীদের আক্রমণের মধ্যে রয়েছে! তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শহরের কেন্দ্রস্থলে (শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায়) এবং সোলোমিয়ানস্কি জেলায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। বিমান হামলার সাইরেন বাজছে এবং হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিয়েভের কেন্দ্রীয় রাস্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে।’

খারকিভের মেয়র বলেছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শহরের একটি জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করেছে। এর ফলে সেখানে বিদ্যুৎ এবং পানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় টারনোপিল এবং লভিভেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে বলে উভয় প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। লভিভের মেয়র বলেছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শহরের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সুমি, জাইটোমির, খমেলনিতস্কি এবং কিরোভোহরাদ অঞ্চলেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রাশিয়া ও ক্রিমিয়ার উপদ্বীপের মধ্যবর্তী একমাত্র সেতু বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এজন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট পুতিন দেশটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকা-’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এ বিস্ফোরণের ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করে তা উদযাপন করেন। ওই ঘটনাকে একটি বিজয় হিসেবে দাবি করেন। গতকাল সোমবার পুতিন তার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকের আগেই রাশিয়ার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত একটি জবাব দেওয়ার জন্য ক্রেমলিনের প্রতি দাবি জানায়। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বৈঠকের আগে করা এক মন্তব্যে বলেন, ‘রাশিয়ার উচিত কের্চ সেতুতে হামলার জন্য দায়ী ‘সন্ত্রাসীদের’ হত্যা করা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত