ল্যাবরেটরিতেই মানব মস্তিষ্কের কোষ বড় করেছেন গবেষকরা। ল্যাবে বড় হওয়া সেই মস্তিষ্ক কোষ মাত্র পাঁচ মিনিটেই ভিডিও গেম খেলতেও শিখে গেছে। ৭০ দশকে নির্মিত টেনিস ধাঁচের ভিডিও গেম ‘পং’ খেলে সংবেদনশীলতার প্রমাণও দিয়েছে সেই ‘মিনি-ব্রেইন’।
বিবিসি জানাচ্ছে, কম্পিউটিং ডিভাইসের সঙ্গে মানব মস্তিষ্কের জ্যান্ত কোষ জুড়ে দিয়ে জৈবিক বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টির লক্ষ্য কাজ করছে ‘কর্টিকাল ল্যাবস’। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নিউরনের এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গবেষণাগারে ‘সংবেদনশীল মিনি-ব্রেইন’ তৈরির দাবি করেছেন কোম্পানিটির গবেষক ড. ব্রেট কাগান। ড. কাগানের ভাষ্যে, ‘ডিভাইসটির বর্ণনা দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ খুঁজে পাইনি আমরা। বাহ্যিক উৎস থেকে তথ্য নিতে পারে এটি, সেই তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়াও জানায়।’
বাজারে বিদ্যমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সিস্টেমের চেয়ে দ্রুত শিখতে পারে মানব মস্তিষ্ক; মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও বেশি এর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন প্রজন্মের কম্পিউটারের জন্য এটাই কি আরও ভালো মডেল?
তবে অন্য গবেষকরা এ গবেষণার অগ্রগতিকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিলেও কোষগুলোকে ‘সংবেদনশীল’ বলার বেলায় দ্বিধাবিভক্ত বলে জানিয়েছে বিবিসি।
‘মাইক্রোসেফালি’ নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে গবেষকরা প্রথম ‘মিনি- ব্রেইন’ সৃষ্টি করেছিলেন ২০১৩ সালে। জিনগত ত্রুটির কারণে মস্তিষ্কের আকার ছোট হওয়ার ব্যাধি ‘মাইক্রোসেফালি’। তারপর থেকেই মানব মস্তিষ্ক নিয়ে নানা গবেষণার কাজে ‘মিনি-ব্রেইন’ ব্যবহার করছেন গবেষকরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, স্টেম সেল এবং ইঁদুরের ভ্রƒণ থেকে মানব মস্তিষ্কের আট লাখ কোষ বড় করেছেন গবেষকরা। তারপর ইলেকট্রোডের মাধ্যমে ভিডিও গেম খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ‘মিনি-ব্রেইন’টিকে।
প্রতিক্রিয়ায় নিজে থেকেই বৈদ্যুতিক সিগন্যাল তৈরি করতে শুরু করে ল্যাবরেটরিতে বেড়ে ওঠা মস্তিষ্ক কোষ। গেম খেলার সময়ে নিজের শক্তি খরচও কমিয়ে আনে এরা। কিন্তু গেম রিস্টার্ট করা হলে নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন করে কার্যপ্রণালী সাজায় কোষগুলো। ওই সময়ে বেড়েছিল শক্তি খরচও।
গেমটি মূলত একটি প্যাডল নিয়ন্ত্রণ করে স্ক্রিনে ভাসতে থাকা একটি বলকে স্ক্রিনের বাইরে পড়ে যাওয়া ঠেকানোর। বিবিসি জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই প্যাডেল দিয়ে বল ঠেকাতে মিস করেছে মিনি-ব্রেইন। কিন্তু এর সাফল্যের হারও কাকতালীয় সুযোগের চেয়ে অনেক বেশি।
