বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতি ও অন্যতম পরাশক্তি হয়ে ওঠা চীনে দেশটির ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ২০তম কংগ্রেস শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার কংগ্রেসের প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণে বিতর্কিত ‘জিরো কভিড নীতি’, তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে যুক্ত করা, হংকংয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে নিজের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। বিশৃঙ্খলা থেকে শাসনের আওতায় এনে হংকংয়ে বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেছে মন্তব্য করে তাইওয়ানের বেলাতেও একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তৃতীয় মেয়াদে কিংবা আমৃত্যু চীনের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে চলা শি চিনপিং বলেন, ‘তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধেও বড় সংগ্রাম চালাচ্ছে চীন। হংকংয়ের মতো তাইওয়ানেও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে পেইচিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও সক্ষম’।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তাইওয়ান সমস্যা সমাধান করা চীনা জনগণের ওপর নির্ভর করছে। চীন কখনোই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের অধিকার ত্যাগ করবে না। তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য চেষ্টা করে যাবে।’
মাও সেতুংয়ের পর চীনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর হয়ে ওঠা চিনপিং কংগ্রেসে নিজের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে এক চীন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ জোর দেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পুনর্মিলন ও জাতীয় পুনরুজ্জীবনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং মাতৃভূমির সম্পূর্ণ পুনর্মিলন অবশ্যই অর্জন করতে হবে।’
রয়টার্স বলছে, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ মডেলের মতো তাইওয়ানকে স্বায়ত্তশাসনে রেখেই চীনের আওতায় আনতে চান চিনপিং। মূলত একই কৌশল চীন হংকংয়েও ব্যবহার করেছে। তবে তাইওয়ানের মূলধারার সকল রাজনৈতিক দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনমত জরিপ অনুসারে এতে কোনো জনসমর্থন নেই। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। পূর্ব এশিয়ার দ্বীপদেশটি তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এই তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে পেইচিং।
এদিকে কংগ্রেস শুরুর আগে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কাছে পাঠানো চিঠিতে শি লিখেন, ‘বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে যোগাযোগ, ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
চলতি কংগ্রেসে চীনের কূটনৈতিক বিষয়ে নিজের পূর্ব সিদ্ধান্তগুলোতে অবিচল থাকার প্রত্যয় ঘোষণার পাশাপাশি চীনের অভ্যন্তরীণ ও সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জিরো-কভিড নীতিতেও অটল
থাকার কথা জানান শি। যত বিতর্কই থাকুক জিরো-কভিড নীতি এখনই শিথিল হচ্ছে না আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণ ও তাদের জীবনকে অন্য সবকিছুর তুলনায় বেশি প্রাধান্য দিয়েছি এবং এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে জনগণের পুরোদস্তুর লড়াইয়ের উদ্যোগ নিতে লাগাতার জিরো কভিড নীতি অনুসরণ করেছি।’
যদিও বিবিসি বলছে, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শি তার জিরো-কভিড নীতিকে জনগণের লড়াই বলে অভিহিত করলেও এর আওতায় জারি থাকা কঠোর লকডাউন এবং ভ্রমণে কড়াকড়ির কারণে চীনে গণঅসন্তোষ, হতাশা বাড়ছে। এমনকি গণঅসন্তোষ বেড়ে কংগ্রেসের আগে আগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিরল বিক্ষোভও হয়েছে। সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর সিপিসির কংগ্রেস হয়। এবারের কংগ্রেসে কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে অটল শি তৃতীয় মেয়াদে দলের শীর্ষ পদে আসবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
