এবার ছোট খেলায় দৃষ্টি বসুন্ধরা কিংসের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩১ পিএম

ফুটবল অঙ্গন জয় করে এবার বসুন্ধরা কিংস দৃষ্টি রাখতে যাচ্ছে অন্যান্য খেলায়। কালের স্রোতে যে খেলাগুলো জনপ্রিয়তা হারিয়ে ধুঁকছে, কিংস চায় সে সব খেলায় যুক্ত হতে। জাগিয়ে তোলার যে স্বপ্ন নিয়ে ফুটবলে পা রাখা বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকাধীন ক্লাবটির, সেই একই উদ্দেশ্যে এবার ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, দাবার পাশে দাঁড়াতে চায় কিংস।

প্রতিষ্ঠা ২০১৩ সালে। ফুটবলের সঙ্গে সখ্যের শুরু ২০১৬ সালে পাইওনিয়র ফুটবল লিগের মধ্য দিয়ে। বাফুফের সব শর্ত পূরণ করে পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের বছর শীর্ষ লিগে নাম তোলা বসুন্ধরা কিংসকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে তারা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন। নারী ফুটবল লিগের শ্রেষ্ঠত্বও পেয়েছে টানা দু’বার। এএফসি কাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে তিনবার। তাদের শো-কেসে আরও শোভা পাচ্ছে দুটি ফেডারেশন কাপ ও একটি স্বাধীনতা কাপ শিরোপা। ফুটবল যেমন তাদের দিয়েছে হাত ভরে, তেমনি ফুটবলকে ফিরিয়ে দিতেও কার্পণ্য করেনি বসুন্ধরা কিংস। দেশের প্রথম ও একমাত্র ক্লাব হিসেবে গত মৌসুমে তারা খেলেছে নিজস্ব মালিকানাধীন ভেন্যু কিংস এরেনায়। বিশ্বকাপার উড়িয়ে এনে চমকে দেওয়া, ব্রাজিলের বড় বড় ক্লাবের ফুটবলারদের নিজেদের ডেরায় নিয়ে আসার পাশাপাশি স্থানীয় ফুটবলারদের বাজারদর আকাশ ছুঁইয়ে এখন ফুটবলারদের পরম আরাধ্য ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। একটু আন্তরিকতা ও শতভাগ পেশাদারি কায়দায় হেঁটে যে চাইলেই সাফল্য ছোঁয়া যায়, তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ বসুন্ধরা কিংস। দেশের গ-ি ছাড়িয়ে কিংসের নাম ছড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক পরিম-লে। ভালো ফুটবল দিয়ে বাহবা কুড়িয়েছে ভিনদেশিদের। ফুটবল জগতে এখন কিংস একটা ব্র্যান্ডের নাম। এবার তারা ফুটবলের পাশাপাশি দৃষ্টি দিতে চায় অন্য খেলায়।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠছে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স। যেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি ছাড়াও থাকবে ছোট ছোট অনেক খেলার অবারিত সুযোগ-সুবিধা। স্বপ্নের কমপ্লেক্স পুরোপুরি চালু হতে আরও কিছু সময় বাকি। তার আগেই নিজেদের জগৎটাকে বিস্তৃত করার কথা বললেন কিংসের স্বপ্নবাজ সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘একটা সময় দাবা, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টনের মতো খেলাগুলোর বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল। ডানা, মরিয়ম, কচি, রচি, হাসেম, জিলানী, সাদী, নিয়াজ মোরশেদের মতো কত কত তারকা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে একটা সময় সমৃদ্ধ করেছেন। এখন সেই খেলাগুলোর খোঁজখবর কেউ রাখে না। আমরা তাই এসব খেলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে চাই।’ ইমরুল হাসান একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ছোট খেলায় যুক্ত হওয়ার, ‘ফুটবলে দেখা যায় একজন খেলোয়াড়ের পেছনেই ৬০-৭০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। অথচ এরকম একটা বাজেট নিয়ে ছোট খেলাগুলোতে চাইলেই সেরা দল গড়া সম্ভব। আর এসব খেলার জন্য অনেক বেশি সময় ও শ্রমও ব্যয় করতে হয় না। আমরা যদি যুক্ত হই, তবে এটা নিশ্চিত যে সেসব খেলার মানুষগুলো কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন, একই সঙ্গে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেও অনুপ্রাণিত হবেন।’

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে দুটি ফুটবল স্টেডিয়াম ছাড়াও দুটি ক্রিকেট মাঠ নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে বসবে হকি টার্ফও। ক্রিকেট, ফুটবল রেখে ছোট খেলায় দৃষ্টি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইমরুল হাসান বলেন, ‘ক্রিকেট, হকিতেও ধীরে ধীরে আমরা যুক্ত হব। তবে এর জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধাগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে। খেলোয়াড়দের আবাসনটা আগে নিশ্চিত করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

ফুটবলের ঘরোয়া সাফল্য অর্জনের পর এখন নজর আন্তর্জাতিক সাফল্যে। এএফসি কাপে বারবার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হতে হয়েছে। আগামী মৌসুমে কিংস খেলবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ। এই লক্ষ্যপূরণে অতীতের আগের মতো এবারও গড়েছে শক্তিশালী দল। ফুটবলের মতো কিংস নিশ্চয় চাইবে না তথাকথিত ছোট খেলাগুলোতেও পিছিয়ে থাকতে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় দাবা, ব্যাডমিন্টন, টিটির মানুষদের জন্য কিংস হাজির হচ্ছে সৌভাগ্যের ডালি হাতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত