‘চেক’ নিয়ে এসইসির নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ১১:৫২ পিএম

চেক নগদায়ন না হলে শেয়ার কেনা যাবে না, ২০১০ সালের এমন একটি নির্দেশনা পুনরায় জারি করায় হঠাৎ করেই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত ১১ অক্টোবর নির্দেশনাটি নতুন করে জারির পর গত তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হয়েছে। এর মধ্যে পতনের প্রথম দুই দিন সূচক কমার পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গতকাল বড় আকারে পতন হয়েছে। ফ্লোর প্রাইসের বাইরে থাকা বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে করে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৬৫ পয়েন্ট।

এমন পরিস্থিতিতে চেক নিয়ে নির্দেশনা না পাল্টালে বাজার পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে বলে সতর্ক করে এসইসি ও ডিএসইতে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে গ্রাহকের জমাকৃত চেক নগদায়নের পর ক্রয়াদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে ডিবিএ। একই দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরাম।

তবে এসইসি বলছে, এটি নতুন কোনো কিছু নয়। পুঁজিবাজারের মূল আইনে প্রথম থেকেই ছিল। নির্দেশনাটি জারির দিন এসইসির কমিশনার আবদুল হালিম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি খুব স্পষ্ট করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মূল আইনে বলা আছে, কোনোভাবেই নগদ টাকা ছাড়া শেয়ার কেনা যাবে না।

এসইসির নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর স্টক ব্রোকারদের প্রতি জারি করা এক চিঠিতে ডিএসই জানায়, চেকের টাকা নগদায়নের আগে তা দিয়ে শেয়ার কেনা যাবে না। রেফারেন্স হিসেবে ২০১০ সালে জারি করা নির্দেশনাটি যুক্ত করে দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর একবার নির্দেশনা এসেছিল, গ্রাহক থেকে ব্রোকারেজ হাউজগুলো যে চেক পাবে, তা আগে নগদ টাকায় পরিণত করতে হবে। অর্থাৎ চেকের টাকা যখন ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তখন তারা সেই টাকা দিয়ে বিনিয়োগকারীকে শেয়ার কিনে দিতে পারবে।

২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর জারি করা ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে ধস নেমে আসে। যদিও এর দুই দিন পর ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ওই নির্দেশনা তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ধস পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। এখন প্রায় এক যুগ পর নতুন করে নির্দেশনাটি জারি হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে। গত কয়েক দিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং এর প্রভাবে পতনের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। চেক নির্দেশনার প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারের ওপরে ভালো হবে না জানিয়ে এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে ডিবিএ।

ডিবিএর চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে রিয়েল টাইম ব্যাংকিং ব্যবস্থা নেই। ফলে কখনো কখনো দেখা যায় যে গ্রাহক আগে চেক জমা দেন। সেই চেকের বিপরীতে গ্রাহককে শেয়ার কিনে দেয় ব্রোকারেজ হাউজগুলো। এই নিয়মে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এ ছাড়া সব গ্রাহক এই সুবিধা পান না। যারা ভালো গ্রাহক, তারাই শুধু এই সুবিধা পান। যেহেতু এর ঝুকি ব্রোকারেজকে নিতে হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের পুঁজিবাজারের লেনদেন কমে যাবে। বাজারে সূচক কমে গেলে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে ফেলতে পারেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাজার মন্দা দেখা দিতে পারে। তাই এই আইনের বাস্তবায়নের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া দরকার। 

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিরূপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমনিতেই পুঁজিবাজার ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ক্রমাগত শেয়ার বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চেক নিয়ে নির্দেশনাটি পুঁজিবাজারে আতঙ্ক তৈরি করছে। অনেক বিনিয়োগকারী সাইডলাইনে ফিরতে শুরু করেছেন। গতকালের লেনদেন পরিস্থিতিতে এর  নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৬১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ২৬টির, কমেছে ১৪৫৩টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮২টির। লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত