‘জীবনে কখনো নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে আপস করিনি। কী কারণে আমাকে অবসর দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কিছুই জানি না।’ গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমনই প্রতিক্রিয়া জানান মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে বাধ্যতামূলক অবসর সম্পর্কে বিদায়ী তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন। এদিকে সচিবের বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদও। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তাই তারাই এ-সম্পর্কে বলতে পারবে।
নিজেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের হল শাখার সাবেক সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে মকবুল হোসেন বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই বেঁচে থাকব।’
গতকাল দুপুরের দিকে সচিবালয়ে তথ্য সচিবের দপ্তরে যান মকবুল হোসেন। তখন সাংবাদিকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকরের কথা থাকলেও কার্যত এটি গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত কাগজপত্র রেখে গিয়েছিলেন, সেগুলো নিতে এসেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার যে কাউকে অবসরে পাঠাতে পারে। একজন সরকারি কর্মচারীর জন্য এটি অবশ্যই শিরোধার্য।
সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ অস্বীকার করে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকেরা অনুসন্ধান করতে পারেন যে সরকারবিরোধী কর্মকা-ের সঙ্গে তথ্যসচিবের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না। যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটি আপনারা প্রচারও করতে পারেন। আমার পক্ষ থেকে কোনো অসুবিধা নেই।’
উল্লেখ্য, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেনকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে গত রবিবার।
চাকুরির মেয়াদ পূর্তির প্রায় এক বছর আগেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনকে অবসর প্রদানের আদেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘এটি গতকাল আমি মন্ত্রণালয়ে এসে শুনেছি। অন্তর্নিহিত কী কারণ, সেটি আমি জানি না। সেটি বলতে পারবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো সচিব অবসর গ্রহণ করলে, তাকে আবার চুক্তি দিতে পারে, দেয়। আবার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে সচিবকে অবসর দেয়। এগুলো আগেও ঘটেছে। প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে, আমি মন্ত্রণালয়ে এসে শুনেছি।’
তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, চলছে। কারণ আমি প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে আসি। সকল কাজ আমি সম্পূর্ণভাবে তদারক করি। আমি কোনো একটা সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করি।’
