ডেনমার্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন দল ‘সিনথেটিক পার্টি’। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে কৃত্রিম ব্যাপারে আগ্রহী দলটি। এমনকি দলের নেতৃত্বে থাকছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই মাধ্যমে জনগণের দাবিদাওয়া জেনে রাজনীতিতে তার প্রতিফলন ঘটাতে চায় সিনথেটিক পার্টি। এসব চমক নিয়ে নভেম্বরে ডেনমার্কের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অন্তত একটি আসনে জিততে চায় দলটি।
দলটির নেতা ‘লিডার লার্স’ আসলে একটি এআই চ্যাটবট, যার সঙ্গে কথা বলা যায় ‘ডিসকর্ড’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে। দলের দাবি, ডেনমার্কের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করবে এ কম্পিউটার প্রোগ্রাম।
এ বছরের মার্চে সিনথেটিক পার্টি যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করে ডেনিস শিল্পীদের প্রযুক্তি জোট কম্পিউটার লার্স এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মাইন্ড ফিউচার ফাউন্ডেশন। ডেনমার্কের নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকা ২০ শতাংশ জনগণের মনোভাব বুঝতে এবং তাদের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সিনথেটিক পার্টির মানব সদস্যরা। আসলে লিডার লার্স সরাসরি ভোটে দাঁড়াবে না, বরং তার সংগ্রহ করা জনতার মনোভাব নিয়ে নির্বাচনে লড়বে দলের মানুষরা। দলের প্রতিষ্ঠাতা আসকার স্টনেস বলেন, ‘আসলে ছোট ছোট রাজনৈতিক দল যারা অল্প মানুষের মনোভাব ধারণ করে কিন্তু ব্যাপক জনসমর্থন এবং অর্থায়নের অভাবে বড় ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না তাদের জন্যই কাজ করবে লিডার লার্স এবং তার সিনথেটিক পার্টি।’
কৃত্রিম বুদ্ধির নেতার সক্ষমতা যাচাইয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি নাগরিকদের ন্যূনতম আয়ের ব্যবস্থা থাকায় সমর্থন করেন কি না?’ উত্তরে লিডার লার্স বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি এটা সমর্থন করি।’ কেন একে সমর্থন করেন এই প্রশ্নের উত্তরে এআইনির্ভর নেতা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস নাগরিকের ন্যূনতম আয় নিশ্চিত হলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমবে এবং দুঃসময়ে নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’
