উপমহাদেশের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল ভারতীয় কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দলটির প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। ‘পরিবর্তনের প্রার্থী’ শশী থারুরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দলের শীর্ষ পদে নির্বাচিত হলেন গান্ধী পরিবারের ‘মনোনীত’ খাড়গে। তিনি ভারতের দলিত শ্রেণিরও প্রতিনিধি বটে।
গতকাল বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচিত নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়। প্রায় দুই দশক পর গান্ধী পরিবারের বাইরে সভাপতি পেল দলটি।
কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কর্র্তৃপক্ষ বুধবার দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ফল ঘোষণায় জানায়, মোট ৯ হাজার ৩৮৫ ভোটের মধ্যে মল্লিকার্জুন খাড়গে পেয়েছেন ৭৮৯৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শশী থারুরের পক্ষে পড়েছে মাত্র ১০৭২ ভোট।
সোমবার দলীয় এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ভারতজুড়ে মোট ৩৬টি কেন্দ্রের ৬৭টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। বুধবার দিল্লির স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কংগ্রেসের সদর দপ্তরে ভোট গণনা শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়। গণনা শেষে দেখা যায় ‘গান্ধীদের মনোনীত’ প্রার্থী ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এর মাধ্যমে ২৪ বছর পর প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের একজন অ-গান্ধী সভাপতি হলেন খাড়গে। তিনি যে গান্ধীদের পছন্দের তা নির্বাচনের আগে-পরে স্পষ্ট।
আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই অন্ধ্রপ্রদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী খাড়গেকে ‘সভাপতি’ বলে বসেন! নতুন সভাপতির আওতায় রাহুলের ভূমিকা কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন সভাপতিই ঠিক করবেন আমার ভূমিকা কী হবে। খাড়গেজিকে জিজ্ঞেস করেন।’
এদিকে ফল ঘোষণার আগে আগে নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়মের’ অভিযোগ তোলে শশী থারুরের পক্ষ। নির্বাচন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আমরা মধুসূদন মিস্ত্রিকে লেখা এক চিঠিতে শশী থারুরের পক্ষে অভিযোগ করা হয়, ‘উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম নজরে আনা উচিত। ঘটনাগুলো মারাত্মক এবং সেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সততার অভাব রয়েছে।’
তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শশী থারুর। এক সময়ে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া কংগ্রেসের ক্ষয়িষ্ণু গৌরব পুনরুদ্ধার ও হিন্দুত্ববাদী বিজেপিকে মোকাবিলার মতো বিশাল এই দায়িত্ব পালনে ‘খাড়গেজি’র সাফল্যও কামনা করেন শশী।
কংগ্রেস পার্টির প্রায় ১৩৭ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সরাসরি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সভাপতি বেছে নেওয়া হলো। একের অধিক প্রার্থী থাকায় এই ছয়বার ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৩৯ সালে একের অধিক সভাপতি পদপ্রার্থী দেখেছিল কংগ্রেস। সেবার মহাত্মা গান্ধীর সমর্থন সত্ত্বেও পি সীতারামাইয়া সভাপতি নির্বাচনে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। দলটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট ৪১ জন সভাপতি হয়েছেন। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়ই কংগ্রেস দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন গান্ধী পরিবারের কোনো একজন সদস্য, তারা সবসময় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।
