মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৮ জন। গতকাল বুধবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও এবং ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ইয়াঙ্গুনের ঔপনিবেশিক আমলের ইনসেইন কারাগারের পার্সেল কাউন্টারের কাছে দুটি বিস্ফোরণের পর গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে কারাগারের তিন কর্মকর্তা ও পাঁচ দর্শনার্থী নিহত হয়েছে।
নিহত পাঁচজন দর্শনার্থীই নারী। তারা বন্দিদের স্বজন ছিল বলে নিশ্চিত করেছে কর্র্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে গত জুনে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রনেতা কো জেমসের মাও আছেন। তিনি ছেলের জন্য খাবার নিয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, বিস্ফোরণের পর পরই কারাগারের সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি দৌড়ে বেরিয়ে আসি। এ সময় আমিও আহত হই। সৈন্যরা কারাগারের প্রবেশপথে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।’
বিস্ফোরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ ফুট দূরে সৈন্যরা অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছেন এই প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি জানান, বিস্ফোরণের কারণে তিনি আহত হননি বরং বুলেটে ক্ষত হয়েছে।
এদিকে কারাগারে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, পুলিশ বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করছে। বিবিসি বার্মিজ বলছে, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত কারাগারের কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা সামান্য আহত হয়েছে, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর কারাগার সংলগ্ন আদালতে শুনানির জন্য নির্ধারিত কয়েকটি মামলার কার্যক্রম সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। মিয়ানমারের সবচেয়ে কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত ইয়াঙ্গুনের এই কারাগার। গত বছরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রকামী হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে এই কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বিরোধীদের দমনে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে আসছে জান্তা সরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
