মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড টিকা কোভিশিল্ডের ১০ কোটি ডোজ ধ্বংস করেছে টিকাটি প্রস্তুতকারক ভারতীয় কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই)।
এসআইআইয়ের কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা বৃহস্পতিবার জানান, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকেই সেরাম ইন্সটিটিউট কোভিশিল্ডের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে এবং সংরক্ষণাগারে থাকা প্রায় ১০ কোটি ডোজ টিকা ৯ মাস ধরে পড়ে থাকায় এবছর সেপ্টেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে।
কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, ভারতে মাত্র ২৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোভিড টিকার বুস্টার ডোজ নিয়েছে।
সেরাম ইন্সটিটিউটের কর্ণধার পুনাওয়ালা বলেছেন, “মানুষ কোভিড নিয়ে ‘তিতিবিরক্ত’ হয়ে উঠেছে। সেকারণে তারা আর বুস্টার ডোজও নিতে চাইছে না। আর সত্যি কথা বলতে—আমি নিজেও বিরক্ত। আমাদের সবার অবস্থাই এক।”
মহারাষ্ট্রের পুনেতে বৃহস্পতিবার সেরাম ইন্সটিটিউটের কার্যালয়ের সদরদপ্তরে ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ভ্যাক্সিন ম্যানুফ্যাকচারার্স নেটওয়ার্ক’ (ডিসিভিএমএন)-এর বার্ষিক সাধারণ সভার ফাঁকে পুনাওয়ালা সাংবাদিকদের একথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তিনি আরও বলেন, “মানুষ প্রতি বছর ঠাণ্ডাজনিত ফ্লুর টিকা নিতে গেলে হয়ত তার সঙ্গে কোভিড টিকার একটি ডোজও নিতে পারেন। কিন্তু ভারতের লোকজন পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মতো নয়। এখানে প্রতিবছর ফ্লুর টিকা নেওয়ার চল নেই।”
ভারতে ৯০ শতাংশ মানুষকেই কোভিশিল্ড দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০০ কোটির বেশি ডোজ কোভিড টিকা দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের ৭০ শতাংশই কোভিড টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন।
জানুয়ারি থেকে ভারতে স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখ সারির কর্মীদের কোভিড টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়। আর দেশটির স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত জুলাইয়ে ৭৫ দিনের জন্য বিনামূল্যে প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করে সরকার। তবে ভারতে কোভিড টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার হার অনেক কম।
২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিড টিকা অনুমোদন করার পর এই টিকা উৎপাদনের জন্য চুক্তি করেছিল ভারতের কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট। কোম্পানিটি এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
