আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কেন উইলিয়ামসন বলেছিলেনÑ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে না জেতার দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে ভাবছেন না। পরদিন অপূর্ণতাটাই পূর্ণ করে নিলেন। অনেক কিছুর জন্যই প্রায় ১১ বছর অপেক্ষা করে থাকা যায়। যেমন কোনো অনুপ্রেরণা বা আজীবন সম্মাননা কিন্তু একটি জয়! মোটেই নয়। নিউজিল্যান্ডকে এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে হোবার্টে টেস্ট জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর ১১ বছরে ১৫ ম্যাচের অপেক্ষা শেষ হলো কাল। সিডনিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে একদম দুমড়ে-মুচড়ে শুরু করল কিউইরা। ৮৯ রানের জয়ে তুলে নিল গত বিশ্বকাপে ফাইনালে হারের প্রতিশোধ। আগে ব্যাট করে কনওয়ের অপরাজিত ৯২ রানে ২ উইকেটে ২০০ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। জবাবে সাউদি-স্যান্টনারের বোলিং দিনে শুধু টসটাই জিতেছে স্বাগতিকরা। বাকি সব বিভাগেই ব্ল্যাক ক্যাপসদের কাছে হলুদদের হার। শুরুর তিন ওভারে ফিন অ্যালন ও কনওয়ের কাছে বেদম পিটুনি খেলেন অজি পেসাররা। তাতে মাত্র ৩ ওভারেই নিউজিল্যান্ডের রান ৪৬। ছুটন্ত নিউজিল্যান্ডকে আর থামাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৫ ওভারের মধ্যে ৬০ রান তুলতে বিধ্বংসী হয়ে ওঠা অ্যালেনকে হারালেও ততক্ষণে সঠিক পথে নিউজিল্যান্ড। দলকে দারুণ অবস্থায় রেখে যান প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা অ্যালেন। মাত্র ১৬ বলে ৩ ছক্কা ও ৫ চারে করেছেন ৪২। ২৬২.৫০ স্ট্রাইকরেটে ‘রিয়েল ইমপ্যাক্ট’ ইনিংস। তবে আসল ইমপ্যাক্ট রেখেছেন কনওয়ে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে একপ্রান্তে উইকেট আগলে রাখাই শুধু নয় রানও বাড়িয়েছেন। দ্বিতীয় উইকেটে ২৩ রান করা কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি। ১২ রান করা ফিলিপসকে নিয়ে মাত্র ২৭ যোগ করলেও জেমস নিশামকে নিয়ে আর বিপদে পড়তে দেননি দলকে। ২৬ রানে অপরাজিত থাকা নিশামের সঙ্গে তার জুটি মাত্র ৪ ওভারে ৪৮। ২ ছক্কা ও ৭ চারে ৫৮ বলে ৯২ রানে অপরাজিত ছিলেন কনওয়ে।
ম্যাচ শেষে এই ব্যাটার আবারও মনে করিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়াকে ১০ বছর পর হারানোর লক্ষ্যটা ওভাবে ছিল না, ‘আমরা এই বিষয়টা একদমই মনে রাখিনি। এটা আমাদের চিন্তার বাইরে ছিল। আমরা ম্যাচটিকে একটি আলাদা ম্যাচ হিসেবেই ধরেছি। আমরা এই ম্যাচটায় ফোকাস রেখেছি।’ ম্যাচে তার সঙ্গে অ্যালেনের জুটিটাই জয়ের সুর বেঁধে দিয়েছে। কনওয়েও তা-ই মনে করেন, ‘ফিন দারুণ বল স্ট্রাইকার। এটা আমাকে নির্ভার করেছে। দেখবেন ও যতক্ষণ ক্রিজে ছিল আমি বড় শট নেওয়ার দিকে খুব একটা মনোযোগ দিইনি। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা দারুণ ছিল।’
বোলিংয়ে ব্যর্থতার ছাপটা ব্যাটে কাটাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডের ঠিক বিপরীত মেরুতে থেকে ইনিংস শুরু করে শুরুতেই পিছিয়ে যেতে হয় দলটিকে। শুরুর ৫ ওভারেই ৩৪ রানে তাদের ৩ উইকেট নেই। এই ধাক্কা সামলে উইকেট ধরে রান তোলা আর সম্ভব হয়নি অজিদের। স্যান্টনার-সাউদি-সোধিরা একদম তছনছ করে দেন অজি ব্যাটিং লাইন। বোলারদের কাজটা সহজ করেছেন ফিল্ডাররা। মার্কাস স্টয়নিসের ক্যাচ যে ভঙ্গিতে নিয়েছেন গ্লেন ফিলিপস আসরের সেরা ক্যাচের একটি হয়ে থাকবে অবশ্যই। টপঅর্ডার থেকে শুরু করে মিডল পর্যন্ত মাত্র গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বিশের ওপর (২৮) রান করেন। এছাড়া বোলার প্যাট কামিন্স করেন ২১ রান। এমন বিভীষিকাময় শুরুতে ব্যর্থতাটা মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও, ‘ঘরের মাঠে এমন একটি টুর্নামেন্টের হিসাবে এটা আমাদের বড় বিশাল হার। তিন বিভাগেই ওরা আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। ওদের ব্যাটার ও বোলাররা ছিল নিয়ন্ত্রিত এবং ফিল্ডাররা অবিশ্বাস্য। এটা আমাদের অনেক বড় ধাক্কা দিয়েছে। আমাদের নেট রান রেটও বড় ধাক্কা খেল। তবুও আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। আমাদের হাতে এখনো চার ম্যাচ আছে। আমাদের সামর্থ্য আছে এই চার ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে যাওয়ার।’
সেমিফাইনালে যাওয়ার সামর্থ্য অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার আছে। তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তবে নিউজিল্যান্ড কাল যে পারফরম্যান্স দেখাল তাতে কিউইদেরও সেমিফাইনালের দাবিদার ধরতে হচ্ছে ভালোভাবেই।
