বারেইরসের বিশ্বাস আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বকাপ জিতবে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ১১:১৫ পিএম

হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে ম্যারাডোনা-মেসির দেশের গুইদো বারেইরস এখন ঢাকায়। খেলেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে হকি বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের দেশে আসা ৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় জানেন ক্রিকেট খেলাটা কী। তবে এটা জানেন না তার দেশ এখন ক্রিকেট খেলে। দেশ রূপান্তরের শিহাব উদ্দিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন অনেক কিছু এটা তো আপনার প্রথম বাংলাদেশে আসা। আপনার ক্যারিয়ারটা সংক্ষেপে বলুন।

বারেইরস : আর্জেন্টিনা জাতীয় হকি দলের হয়ে মোট ৬০ ম্যাচের মতো খেলেছি। মালয়েশিয়ায় অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে আমি প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করি। জাতীয় দলের হয়ে আমার অভিষেক ১৯ বছর বয়সে। আমি বিশ্বকাপ (একবার, ২০১৩), চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, প্রো লিগ, ওয়ার্ল্ড লিগ খেলেছি। ১৪ বছর ধরে ইউরোপিয়ান হকি লিগে খেলি। স্পেন ও বেলজিয়ামে এক বছর করে আর জার্মানিতে ১২ বছর ধরে খেলছি। এখনো জার্মানিতে খেলি মানহেইমার হকি ক্লাবের হয়ে। ক্লাবের হয়ে একবার বুন্দেসলিগা হকি (জার্মান লিগ) লিগ জিতেছি, ইউরোপিয়ান হকি লিগে তৃতীয় হয়েছি। এছাড়া আর্জেন্টিনায় আমার হোম ক্লাবের হয়ে একবার লিগ জিতেছি।

বাংলাদেশের হকিতে আপনার আসাটা কীভাবে?

বারেইরস : গত বছর বাংলাদেশের হকি লিগে খেলার কথা ছিল। আমি সময় পেলে মালয়েশিয়ান লিগেও খেলি। ওখানকার একজন গতবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন জার্মানির ক্লাবের হয়ে ব্যস্ততা থাকায় আসতে পারিনি। এবার সেই লোকই আমাকে জানায় যে বাংলাদেশে হকির প্রসারের লক্ষ্যে ভালো একটা লিগ হচ্ছে। তো আমি যেহেতু হকি পছন্দ করি এবং এখন ফ্রি আছি তাই এই সুযোগটা মিস করিনি।

খুব বেশিদিন হয়নি আপনি বাংলাদেশের হকি দেখলেন। যে অভিজ্ঞতা আপনার আছে ওই দিক থেকে এদেশের হকি কেমন দেখলেন?

বারেইরস : এখানের হকি ইউরোপের চেয়ে অনেক ভিন্ন। ওখানে আমরা ট্যাকটিকস ও টেকনিকের ওপর নির্ভর করে খেলি। কিন্তু এখানে শুধু আক্রমণটাই বড় কথা। ইউরোপে একজন মিডফিল্ডার ও ডিফেন্ডারের ম্যাচে অনেক ভূমিকা থাকে। আমি একজন মিডফিল্ডার। আমার দলে সতীর্থ জার্মানির মারিজ ফ্রেও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তো আমাদের জন্য এখানে কাজটা সহজ। রক্ষণ নিয়ে খুব একটা ভাবতে হচ্ছে না, আমরাও প্রতিপক্ষের ডি বক্সে চলে যাচ্ছি আক্রমণ করার জন্য। এখানে এই ভিন্নতা দেখলাম। আমরা এটা উপভোগ করছি, কারণ আমাদের ডিফেন্স সামলাতে হচ্ছে কম বরং ফরোয়ার্ডের মতো আক্রমণ করতে পারছি (হাসি)। আর এমনিতে বাংলাদেশের হকি নিয়ে খুব একটা জানা নেই, কারণ এখানে মাত্র দুটো ম্যাচ দেখলাম। তবে প্রথম দিনের দুটো ম্যাচই ৩-২ ব্যবধানে শেষ হয়েছে। তার মানে এখানে হকির মান অবশ্যই ভালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

আপনার যে অভিজ্ঞতা আছে তা এ দেশের হকিতে কীভাবে কাজে লাগবে?

বারেইরস : অবশ্যই আমি এ দেশের হকিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারি। যেমন মাঠে কীভাবে সংগঠিত হতে হয়। কোন পজিশনে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাকতে হয়। এ জায়গাগুলো নিয়ে আমরা ইউরোপে অনেক কাজ করি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে এটা আমি শেয়ার করতে পারি।

আর্জেন্টিনার দেশের মানুষ তো ফুটবল স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। একই সঙ্গে চলে আসে দুজনের নাম মেসি ও ম্যারাডোনা। মেসির সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে কখনো?

বারেইরস : আমার জন্ম বুয়েনস আয়ার্সে। মেসি রোজারিওর। দুই ঘণ্টার গাড়ি দূরত্ব। বেশ কয়েকবার গিয়েছি সেখানে। মেসির সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। তবে স্পেনে থাকার সময় আমি নিয়মিতই বার্সেলোনায় ওর খেলা দেখতাম। আর আর্জেন্টিনার জার্সিতেও ওকে অনেকবার খেলতে দেখেছি মাঠে বসে। মেসি আমাদের দেশের খেলোয়াড়, এটাই আর্জেন্টাইন হিসেবে আমাদের জন্য গর্বের। কারণ পুরো বিশ্ব ওকে চেনে। ওর জন্য আমাদেরও দেশ হিসেবে সবাই চেনে।

মেসি তো ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। এবার তার কাপ জেতার সম্ভাবনা কতটুকু?

বারেইরস : ২০১৪তে একটা ভিন্ন দল ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এবার যে দলটা আছে আমি বলব ওরা উত্তাপ নিয়ে এসেছে। ওদের মধ্যে জেতার ইচ্ছের আগুন দেখতে পাই। নতুন কোচের অধীনে ওরা খুবই উজ্জ্বল হয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা এই দলের সবাই মেসিকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে এবং তাকে অনুসরণ করে। আমাদের জন্য এই বিশ্বকাপটা দেখা সত্যই রোমাঞ্চকর হবে। মেসি কখনো জেতেনি তবে হয়ত এবার...!

এবার আসল ব্যক্তির কথায় আসি। ম্যারাডোনার বিদায়ের খবরটা আপনি বা আর্জেন্টিনার কাছে কেমন ছিল?

বারেইরস : ওহ, আর বলবেন না। আমি জার্মানিতে ছিলাম। খবরটা শুনে আমি কেঁদে ফেলি। আমরা জানতাম তার শরীরে অনেক অসুস্থতা ছিল তবুও ভাবিনি উনি এত জলদি চলে যাবেন। উনি আমাদের জন্য কিংবদন্তি। পুরো আর্জেন্টিনা হতবাক হয়ে যায়। তাকে আর্জেন্টিনার সবার পছন্দ করার কারণ একজন দরিদ্র ঘরের সন্তান হয়েও উনি দেখিয়েছেন বিশ্বকে জয় করা যায়। এটা সব আর্জেন্টাইনের জন্য অনুপ্রেরণা।

ম্যারাডোনার জন্যই কি আর্জেন্টিনায় ফুটবল ধর্মতুল্য?

বারেইরস : অবশ্যই। আমাদের কাছে ফুটবল ধর্মের মতোই। ম্যারাডোনা সেই জায়গাটা তৈরি করেছেন। আমিও ছোটবেলায় ফুটবল খেলতাম। স্কুল থেকে ফিরেই ছুটতাম ফুটবল মাঠে। আমাদের দেশে অনেক ফুটবল মাঠ আছে। শুধু মাঠ নয়, রাস্তার ধারেও ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখবেন। আমি হকি খেলোয়াড় না হলে অবশ্যই ফুটবলার হতাম। আমার ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। ঠিক যেমন ম্যারাডোনার ছিল। আমি কখনই ক্লাবের খেলা মিস করি না। ওদের যখন ম্যাচ থাকে জার্মানিতে ভোর ৪টা। আমি ওই সকালে উঠে সব ম্যাচ দেখি।

তাহলে আপনি হকিতে আসলেন কীভাবে। আর আর্জেন্টিনায় হকির অবস্থা জনপ্রিয়তার দিকে কেমন?

বারেইরস : আমার বাবা ছিলেন হকি খেলোয়াড়। উনি আর্জেন্টিনা হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন। তার জন্যই আমার হকিতে আসা। আর এখন আর্জেন্টিনায় হকি বেশ এগিয়েছে। দুই দশক আগে শুরুতে নারী হকি সাড়া ফেলেছিল। এরপর পুরুষ হকি ২০০০-এর কিছু পর থেকে সাফল্য পাওয়ায় এই খেলাটা আর্জেন্টিনায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমাদের দেশে ফুটবলের পর বাস্কেটবল জনপ্রিয়, এরপর হকি। এছাড়া বেসবলও খেলা হয়।

বলছিলেন বোকা জুনিয়র্স আপনার ক্লাব। আপনাদের প্রতিপক্ষ রিভারপ্লেটের কোনো সমর্থকের সঙ্গে মারামারি করেছিলেন? যেমনটা আমরা শুনি?

বারেইরস : (হাসি) না না, আমি কখনো মারামারি করিনি। তবে আমাদের অনেক গল্প আছে। সেসব বলতে গেছে অনেক সময় দরকার। তবে হ্যাঁ, আমি অনেক তর্ক করেছি নিজের ক্লাবের হয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত