বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হল জাপানি সাহিত্যিক হারুকি মুরাকামির সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা নিয়ে অনুলবাদ মূলক বই ‘হারুকি মুরাকামি: সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা ও স্মৃতিকথা’। বইটির সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ করেছেন আলভী আহমেদ।
বইটি প্রকাশ সম্পর্কে লেখক আলভী আহমেদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একজন লেখক হয়তো সারাজীবনে ২০ থেকে ৩০টা বই লেখেন। মনোযোগী পাঠক হলে সেগুলো শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না।
হারুকি মুরাকামির ক্ষেত্রেও এক সময় আবিষ্কার করলাম, তাঁর সব বই পড়া হয়ে গেছে। পাঠকের পড়ার গতির সাথে লেখকের তাল মেলানো সহজ নয়। তখন রিভিশন দিতে শুরু করলাম। তাতে মন ভরল না।
বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং ইউটিউব খুঁজে তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা সংগ্রহ করলাম। কিন্ডেল কমুনিটিতে একটা বই আছে, ‘মুরাকামিস ইন্টারভিউ’ নামে। রিচার্ড কুপারের সংকলন। সেটা সংগ্রহ করলাম। যদিও কপিরাইট জটিলতায় অ্যামাজন তাদের সাইট থেকে বইটা সরিয়ে দিয়েছে প্রকাশের কিছুদিন পর। কিন্তু ততদিনে আমি সেটা সংগ্রহ করে ফেলেছি।
তাঁর সব বক্তৃতা আর সাক্ষাৎকার এক করে একটা ওয়ার্ড ফাইল বানালাম। একসময় দেখলাম, সেই সংগ্রহ বিশাল হয়ে গেছে। প্রায় ৪০ হাজার শব্দের মতো। সেগুলো গল্প-উপন্যাস নয়। হারুকি মুরাকামির নিজের বয়ানে নিজের কথা। সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা আর স্মৃতিকথা।
কীভাবে ভাবেন, কী পড়েন, পৃথিবীটাকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন, কেউ যখন তাঁর লেখার সমালোচনা করে তখন কেমন লাগে তাঁর, বিড়াল কেন ভালোবাসেন, জাপান থেকে কেন পালিয়ে গিয়েছিলেন, আবার ফিরেই বা এলেন কেন, তাঁর চিন্তাভাবনা এমন উইয়ার্ড কী করে হলো ইত্যাদি। দারুণ মজার সব লেখা। একই সঙ্গে মনে নতুন চিন্তার জন্ম দেয়।
একসময় মনে হলো, মুরাকামির এসব অজানা গল্পের ব্যাপারে অনেকেই হয়তো আগ্রহ বোধ করবেন। অনুবাদ করতে শুরু করলাম। সেই অনুবাদের কিছু অংশ 'প্রথম আলো'-তে এসেছে। আর কিছু অংশ 'বাংলা ট্রিবিউন'-এ। তবে সেটা খুব সামান্য একটা অংশ। অধিকাংশই জমিয়ে রেখেছিলাম বই আকারে প্রকাশের জন্য। এখন সেই সময় এসে গেছে।
অনুবাদ করতে গিয়ে লক্ষ্য করেছি, সাক্ষাৎকারগুলোতে অনেক রিপিটেড প্রশ্ন আছে। ধরা যাক, নিউইয়র্কার ফেস্টিভ্যালে তাঁকে যে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেই একই প্রশ্ন হয়তো আর্ট অব ফিকশনেও জন রে করেছেন।
পাঠককে রিপিটেশনের মধ্যে ফেলে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তাই এই সংকলনে সেই সব প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি রাখা হয়নি।
প্রিয় পাঠক, হারুকি মুরাকামির অন্তর্জগতে প্রবেশ করতে চাইলে বইটা সংগ্রহ করুন।’
বইটি পাওয়া যাবে বাতিঘর এবং রকমারিতে।
