বিএনপি নেতাকর্মীদের রংপুরের গণসমাবেশে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার বিকালে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাহবুব হোসেন। এছাড়া অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম হাবিবুর রহমান (৪৫)।
জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিন শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুরে দুদিনের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় গাইবান্ধা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে তারা মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন বাহনে করে রংপুরের গণসমাবেশে যোগ দিতে যান। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যার পর গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুরকে ম্যানেজ করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন শনিবার অ্যাম্বুলেন্সে বসা
নেতাকর্মীদের একটি সেলফি ফেইসবুকে পোস্ট করা হয়। তা ছড়িয়ে পড়লে চাপের মুখে পড়ে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এরপর অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মাহবুব হোসেন গতকাল রবিবার বলেন, ‘রোগী নয়, বিএনপির এমন নেতাকর্মীদের রংপুরের সমাবেশে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলে অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’
আরেক চালক আবুল হোসেনকে হাবিবুর রহমানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।
অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসপাতালটির অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফাকে। কমিটির দুই সদস্য হলেন- আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিশ্বেশ্বর বর্মন এবং এনেসথেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মাহবুবর রহমান। এই কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এক ব্যক্তি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এসে একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী রংপুর নিয়ে যাবেন বলে জানান। তিনি আমাকে শহরের খানকা শরিফ এলাকায় যেতে বলেন। আমি গিয়ে দেখি, সেখানে কিছু লোকজন দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তাদের মধ্যে কিছু লোকজনকে চিনতে পারি। তারা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। এ কারণে আমি আর তাদের বহন করিনি।’
বিএনপির নেতাকর্মীরা জোর করে অ্যাম্বুলেন্সে উঠে পড়ে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা অ্যাম্বুলেন্সে উঠে মোবাইল ফোনে ছবি ওঠায় এবং সেগুলো ফেইসবুকে পোস্ট করে এবং আমাকে বলে, ‘এখন মজা বুঝবে।’ পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেয়।’
