ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সংক্রান্ত পুলিশ আইনের ২৯ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিএমপি কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ এর ২৯ ও ১০৫ ধারা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ) রুলস, ২০০৬ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি হাইকোর্টে বিভিন্ন পেশার পাঁচ বাদীর পক্ষে একটি রিট আবেদন করেন আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী। সমাবেশের অধিকার সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে মিছিল-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করা সংক্রান্ত এসব বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করার নির্দেশনাসহ রুলের আরজি জানান এই আইনজীবী। গত বৃহস্পতিবার আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
শুনানিতে রিটকারী আইনজীবীর যুক্তি ছিল ২৯ ধারার এই বিধানে ডিএমপি কমিশনারকে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে সভা-সমাবেশ ঠেকাতে পুলিশের স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদকে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি বাতিল করা জরুরি। কেননা পুলিশ সমাবেশে বাধা না দিয়ে মানুষকে সহযোগিতা করবে। অন্যদিকে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রিট পিটিশনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, সমাবেশ করার অধিকারের বিষয়টি কোনো নিরঙ্কুশ অধিকার নয়। কেননা ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশ করা যাবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ রুলের আদেশ আসে।
রিটকারী আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অধ্যাদেশের ১০৫ ধারায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশকে দায়মুক্তির বিধানের কথা বলা হয়েছে। হাইকোর্ট এটি এবং ডিএমপির রুলসের বিষয়ে কোনো রুল দেয়নি।’
