বিদিশাকে কারণ দর্শানোর নোটিস এরশাদ ট্রাস্টের

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩৬ এএম

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে ট্রাস্ট। সাত দিনের মধ্যে নোটিসের সঠিক জবাব লিখিত আকারে না দিলে ট্রাস্ট বিদিশার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনুর রশীদ নোটিসে বিদিশার বিরুদ্ধে তিনটি বিষয়ে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। নোটিসে বলা হয়, ট্রাস্টের একমাত্র সুবিধাভোগী শাহাতা জারাব এরিক এরশাদের (এরশাদ-বিদিশার সন্তান) নিরাপত্তার স্বার্থে গত ২৭ অক্টোবর দেশের বাইরে ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি ট্রাস্টি বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক স্থগিত করার জন্য বিদিশাকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা আমলে না নিয়ে দেশের বাইরে চলে যান। এটা ট্রাস্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অবমূল্যায়নের শামিল। পাশাপাশি ট্রাস্টের সুবিধাভোগীর বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাস্টের কোনো সদস্যের তার পাশে থাকা অবশ্যক। কিন্তু বিদিশা তা-ও অগ্রাহ্য করেছেন। এমনকি বিদিশা তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা এরিক এরশাদের একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন এবং তার স্বাক্ষরিত একটি আদেশ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে পাঠান। ওই আদেশে এরিক এরশাদকে দিয়ে ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ধরনের কর্মকা- ট্রাস্ট আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এর আগে গত সোমবার রাজধানীর বারিধারায় এরশাদ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের জরুরি সভা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিষয়ে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ট্রাস্টের বিধি মোতাবেক সুবিধাভোগী সদস্য কখনো নতুন কোনো সদস্য নিয়োগ দেওয়ার অধিকার রাখে না। এমনকি ট্রাস্ট পরিচালনায় এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বা দিতে পারে না। আর ট্রাস্ট আইনমতে কেউ সদস্য না হয়ে সরাসরি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হতে পারে না। এরশাদ ট্রাস্টের বৈধ পরিচালনা পর্ষদ থাকতে সেই বোর্ডের অনুমোদন ব্যতীত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গটিই অবান্তর।

এরিক এরশাদ স্বাক্ষরিত ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের চিঠি প্রসঙ্গে কাজী মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এরশাদ ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধ মেয়াদ রয়েছে। সুতরাং সুবিধাভোগীর চিঠিতে উল্লিখিত তথ্যটি সম্পূর্ণরূপে ভুল।

এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আরও জানান, এরিক এরশাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রেসিডেন্ট পার্কে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ ও ট্রাস্টের নিয়োগ করা তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত