জার্মান ফুটবল দলের কথা শুনলেই মনে হবে গতিময় ফুটবলের কথা। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারা। যার সবশেষটি জিতেছিল ২০১৪ সালে। ওই বিশ্বকাপেও জার্মানির কাছ থেকে বিশ্ব দেখেছে গতিময় ফুটবল খেলা। তবে পরের রাশিয়া বিশ্বকাপেই বাদ পড়ে গ্রুপপর্ব থেকে। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানির সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তবু মঞ্চটা যখন বিশ্বকাপ জার্মানিকে গণনায় রাখতেই হবে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আটবার ফাইনাল খেলেছে তারা।
জার্মানি ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিতে ব্রাজিলকে দিয়েছিল ৭-১ গোলের লজ্জা, পরে মেসির আর্জেন্টিনাকে (১-০) হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তার দুই বছর পর অর্থাৎ ২০১৬ ইউরোতেও খেলেছিল সেমিতে। তাই রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম পর্বে বাদ যাবে তা অনেকেই ভাবেননি। সুইডেন, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলগুলোর গ্রুপে খেলেও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফলাফল করে তারা।
২০২০ ইউরোতেও শেষ ষোলো থেকেই বাদ পড়ে তারা। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইয়ে ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে জে গ্রুপে শীর্ষ থেকেই কাতারের টিকিট নিশ্চিত করে জার্মানি। আবার ২০২২-২৩ নেশন্স লিগে দলটির পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করতে পারেনি সমর্থকদের। ছয় ম্যাচের চারটিতে ড্র করেছে, জয় ও হার একটি করে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে দুই দেখাতেই ড্র, ইতালির সঙ্গে একটা জয়ে আরেকটিতে হার, হাঙ্গেরির সঙ্গেও একই ফল।
জোয়াকিম লো ২০০৬ থেকে ২০২০ ইউরো পর্যন্ত ছিলেন দলটির কোচ। এরপরই হানস ফ্লিক দায়িত্ব নেন। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জার্মানি নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচ খেলে ৪-৩-৩ অ্যাটাকিং ফুটবলে। গত বছরের মার্চে নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে হারে প্রচ- সমালোচনার মুখে পড়ে তারা। ফরমেশন পাল্টে ইউরোতে খেলে তারা ৩-৪-২-১-এ। ফ্লিক আবার ফরমেশন বদলে দলকে খেলাচ্ছেন ৪-২-৩-১ ফরমেশনে। তার অধীনে জার্মানি টানা আট ম্যাচ জিতেছিল। তবে নেশন্স লিগেই ঘটে ছন্দপতন। তবু ফ্লিকের কোচিংয়েই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে জার্মানি। কারণ কোচ হিসেবে বায়ার্নে ফ্লিকের অসাধারণ সাফল্য। বায়ার্নের হয়ে তিনি জিতেছেন ৮৩ শতাংশ ম্যাচ। উয়েফার বর্ষসেরা কোচও হন তিনি। তবে ক্লাব আর জাতীয় দল যে এক হয় নয় তাও জানা আছে সমর্থকদের।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ১১ নম্বরে থেকে কাতার বিশ্বকাপ শুরু করবে জার্মানি। দলটির গোলবারের নিচে থাকবেন দুজন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ও মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। ডিফেন্সে মূল ভরসাটা থাকবে অ্যান্টোনিও রুডিগারের ওপর। রক্ষণে তারকা বলতে ওই একজনই।
জার্মানির মধ্যমাঠ বেশ শক্তিশালী। ইকাই গুনদোয়ান, কাই হাভার্টজ, মার্কো রেউস, জসুয়া কিমিচ, গোরেৎস্কার মতো খেলোয়াড়রা আছেন। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হাভার্টজ খেলতে পারেন ফলস নাইন কিংবা ফরোয়ার্ড পজিশনেও। দেশের হয়ে ৩০ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল কিংবা নেশন্স লিগে পর্তুগাল ও হাঙ্গেরির সঙ্গে পরপর ম্যাচে গোল। ১৯ বছরের মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালাকে ভাবা হচ্ছে জার্মানির পরবর্তী সুপারস্টার হিসেবে।
জার্মানির আক্রমণভাগে থাকতে পারেন সার্জ নাব্রি, টিমো ভেরনার, লেরয় সানের সঙ্গে অভিজ্ঞ টমাস মুলার। মুলার বর্তমানে নিতম্বের ইনজুরিতে আছেন। সানে পেশির ইনজুরিতে। ফলে বিশ্বকাপের আগে তারা ফিট না হলে জার্মানির আক্রমণভাগে ঘাটতি থাকতে পারে।
ই গ্রুপে জার্মানির সঙ্গী স্পেন, জাপান ও কোস্টারিকা। ২০০২ সালের পর আবারও এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বকাপ। এই অঞ্চলে হওয়া আগের বিশ্বকাপে জার্মানি খেলেছিল ফাইনালে। ব্রাজিলের রেকর্ড ৫ বিশ্বকাপের সমকক্ষতা অর্জনের মিশনে এবার কী করে জার্মানি সেটাই দেখার।
