‘হাওয়া’ অভিনেত্রী নাজিফা তুষি এখন দারুণ সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে যে পথটি তৈরি করতে চেয়েছেন এখন তিনি সেই পথের মুসাফির। জানালেন, ‘হাওয়া’র পর শুধু দেশেই নয়, কলকাতা এমনকি মুম্বাই থেকেও বেশকিছু কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ঠিক আগের মতোই শান্ত, ধীরস্থির। চাহিদা আছে বলে সব কাজ একা তাকেই করতে হবে, এটা ভাবছেন না। বুঝেশুনে নতুন কাজ হাতে নিতে চান তিনি। নতুন কাজের খবর আপাতত না থাকলেও ‘হাওয়া’ উন্মাদনা এখনো আছে। আর তুষিও সংগত কারণে আলোচিত। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবে তার ‘হাওয়া’ প্রদর্শিত হয়। আর সেখানে এই সিনেমা নিয়ে যে পরিমাণ হইচই শুরু হয় সেটি নাকি কলকাতার প্রথম সারির তারকাদের ছবি নিয়েও হয়নি নিকট অতীতে। তুষি দেশ রূপান্তরকে গতকাল বলেন, ‘সত্যি আমার মন খারাপ। এমন একটি অভিজ্ঞতা স্বচক্ষে দেখতে পেলাম না। কলকাতার মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছে ছবিটি, যেটি আসলে কল্পনাও করা যায় না। মানুষ লম্বা লাইন ধরে টিকিট কেটেছেন ছবিটি দেখতে। কলকাতার অনেক জনপ্রিয় তারকা নিজ উদ্যোগে ছবিটি নিয়ে তাদের ভালোলাগার কথা বলেছেন। এটা অনেক বড় প্রাপ্তি।’ তুষি ওটিটিতে কাজ করলেও এখনো কলকাতার কোনো কাজে তাকে দেখা যায়নি। তবে তিনি কলকাতায় যে পরিচিতি পেয়েছেন ‘হাওয়া’র মাধ্যমে, তাতে তাকে হয়তো শিগগিরই সেদেশের কাজে দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘আমি আরও আগে থেকেই কলকাতার বেশকিছু নির্মাতার কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু এখন আমি কাজ বাছাইয়ে আগের চেয়ে আরও সচেতন। তাই কাউকে এখনো হ্যাঁ বলিনি। মুম্বাই থেকেও যে প্রস্তাবগুলো এসেছে সেগুলোরও কোনোটি চূড়ান্ত করিনি। তাই এখনই সেসব নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’
তুষির ‘হাওয়া’ যেদিন কলকাতায় প্রথম প্রদর্শিত হয় সেদিন তিনি ব্যস্ত মঞ্চ অভিনয়ে। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে ছিল কলকাতার দর্শকের সঙ্গে ছবিটি দেখার। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি। গত দুটি মাস আমি সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যারের তত্ত্বাবধানে অ্যাডভান্স অ্যাকটিং ওয়ার্কশপ করেছি। সেটি পরিচালনা করেছেন মোহসীনা আক্তার। ওয়ার্কশপে আমরা অভিনয়রীতির জন্য বিশ^বিখ্যাত স্ট্যানিসøাভস্কির অ্যাকটিং মেথড নিয়ে চর্চা করেছি। তা কতটা রপ্ত করতে পারলাম সেটি দেখার জন্য শেক্সপিয়ারের কালজয়ী নাটক ম্যাকবেথের অংশবিশেষ মঞ্চে উপস্থাপন করি। আমি হয়েছিলাম লেডি ম্যাকবেথ। আর ম্যাকবেথের চরিত্র করেছেন আফরান নিশো। যেদিন কলকাতার হাওয়া’র প্রথম প্রদর্শনী হয়, সেদিনই আমার ঢাকার মঞ্চে এই পরিবেশনাটি ছিল। এটাও একজন অভিনেতার জীবনের অন্যতম মুহূর্ত। তারপরও পরদিন কলকাতায় যেতাম, যদি ভিসা আগে থেকে করা থাকত। সেটিও সম্ভব হয়নি। এজন্য আমার দুঃখবোধ রয়েই গেছে। তবে আমি শুনেছি সামনেই হাওয়া প্রদর্শিত হবে কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও কেরালা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। তখন আমি উপস্থিত থাকব। তারজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি, যাতে কোনো অসুবিধা না হয়।’
একের পর এক ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘দেখুন, অভিনয় কিন্তু অত সোজা নয়। কেউ যদি মনে করে ক্যামেরার সামনে গিয়ে সংলাপ প্রক্ষেপণ করলেই অভিনয় হয়ে যাবে, তাহলে তিনি ভুল ভাবছেন। সেটা অন্তত অভিনয় হবে না, অন্য কিছু হবে হয়তো। একজন গায়ক বা নৃত্যশিল্পী যেমন নিয়মিত চর্চা করেন, তেমনি একজন অভিনেতাকেও চর্চার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নয়তো সে একটি নির্দিষ্ট পরিসরে আটকে যায়। সেই চর্চার একটি ভালো মাধ্যম হলো ওয়ার্কশপ। এমন নয় যে ওয়ার্কশপ করে আমি বেস্ট অ্যাকট্রেস হয়ে যাব। তবে আমি নিজে কতটা জানি, আমার বিচার আমি অনেক সময় ঠিকঠাক করতে পারি না। কিন্তু একজন দক্ষ শিক্ষকের আওতায় যখন একটি দলে চর্চা করা হয় তখন নিজেকে ভালোভাবে বিচার করা যায়। নতুন অনেক কিছু শেখা যায়। সেজন্যই এই চর্চাটা আমি নিয়মিত করতে চাই।’
তুষিকে সম্প্রতি দেখা গেছে হকির মাঠে। রূপায়ন সিটি কুমিল্লার টুর্নামেন্টে তিনি দুদিন উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি আয়োজককে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ ক্রিকেট অনেক দূর এগোলেও হকি সেভাবে এগোতে পারেনি। এমন একটি খেলাকে এগিয়ে নিতে তারা আয়োজন করেছে, সেটা প্রশংসার দাবিদার। আর ব্যক্তিগতভাবে আমিও হকি দেখতে পছন্দ করি। এই খেলাটায় একটা এলিগেন্ট ব্যাপার আছে। হকি খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে আমি খুশিমনে করতে চাই।’
