সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দক্ষ ও যোগ্য করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে চাই

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫১ এএম

দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এখন দেশের সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। নিজস্ব ক্যাম্পাসে সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন ২০ বিঘা একটি খেলার সবুজ মাঠ যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানাদিক নিয়ে কথা বলেছেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া

দেশ রূপান্তর : আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে বিশেষ করে সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাই?

অধ্যাপক আবুল কাশেম মিয়া : কয়েকজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের উদ্যোগ এবং ইউনাইটেড গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ৭৬ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। দেশের সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠা ইউআইইউর অন্যতম লক্ষ্য। এ দেশের ছেলেমেয়েদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্রত নিয়ে ইউআইইউ কাজ করে যাচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার্থীরা কোন বিভাগগুলো বেশি পছন্দ করে এবং কেন?

আবুল কাশেম মিয়া : সাধারণত যেসব বিষয়ের জব মার্কেটে চাহিদা বেশি থাকে, সেসব বিষয়ই শিক্ষার্থীরা সবসময় বেশি পছন্দ করে বা পড়তে চায়। বর্তমানে যেমন সিএসই (কম্পিউটার বিজ্ঞান) সাবজেক্টের জব মার্কেটে চাহিদা বেশি বলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই সিএসই সাবজেক্ট পছন্দ করছে। এর পাশাপাশি ইইই, বিবিএ এবং সিভিল ডিপার্টমেন্টও পছন্দের তালিকায় রয়েছে।  

দেশ রূপান্তর : আপনাদের কী কী ধরনের বৃত্তি বা সুবিধা চালু আছে?

আবুল কাশেম মিয়া : ইউআইইউতে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ২৫ শতাংশ এবং গোল্ডেন-৫ প্রাপ্তদের  ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফলাফলের ভিত্তিতে রয়েছে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা। এ ছাড়া প্রতি ট্রাইসেমিস্টার ফাইনাল রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে ১৫ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা। মোট ছাত্র-ছাত্রীর শতকরা ৩ শতাংশ হারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তাদের ফ্রি পড়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও এখানে ভাই-বোন, উপজাতীয় কোটা, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা আছে।

দেশ রূপান্তর : কেন একজন শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবেন?

আবুল কাশেম মিয়া : প্রতিটি কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা বজায় রাখা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও মূল্যায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সামগ্রিক কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষা করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। ইউআইইউর দক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান, আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট করার জন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য রয়েছে একটি সুবিশাল লাইব্রেরি। রয়েছে ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানের মাল্টিমিডিয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ। ভবনের সামনেই আছে সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন ২০ বিঘা একটি খেলার সবুজ মাঠ।

দেশ রূপান্তর: দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কেমন?

আবুল কাশেম মিয়া: ইউআইইউ গ্র্যাজুয়েটরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন। দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে শিক্ষকতা এবং বড় করপোরেট হাউজে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালিসহ ইউরোপের শীর্ষ করপোরেটের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত আছে, যেমনÑ আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফ্ট, ভিসা ইত্যাদি।

দেশ রূপান্তর : এখন পর্যন্ত আপনাদের অর্জন সম্বন্ধে জানতে চাই।

আবুল কাশেম মিয়া : দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউআইইউ। শুরু থেকেই ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ভিন্ন ধারায় ও স্বতন্ত্র মাত্রায় দেশের উচ্চ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে। ইউআইইউ ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে এবং দ্যা ইমপ্যাক্ট র‌্যাঙ্কিংস এসডিজি-১ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

ইউআইইউর বিজনেস স্কুল বিশ্বখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘এসিবিএসপি’ কর্তৃক স্বীকৃত বা অ্যাক্রেডিটেড। বাংলাদেশে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইউআইইউ বিনা শর্তে ১০ বছরের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ ছাড়াও বিবিএ ইন এআইএস ডিপার্টমেন্ট ‘সিআইএমএ (সিমা)’ কর্তৃক স্বীকৃত বা অ্যাক্রেডিটেড। ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) কর্তৃক স্বীকৃত বা অ্যাক্রেডিটেড।

দেশ রূপান্তর : আগামীতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

আবুল কাশেম মিয়া : বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত