মানুষের গায়ে হাত দিলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কেউ রাজনীতি করতে চাইলে সুষ্ঠু রাজনীতি করুক। আপত্তি নেই, কিন্তু সাধারণ মানুষের গায়ে কেউ হাত দিলে তাদের রক্ষা নেই। এটা সহ্য করা যায় না। কোনো মানুষ সহ্য করতে পারবে না।
গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ : বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের খণ্ডচিত্র’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস এবং বর্বরতার উল্লেখ করে বলেন, সেই বর্বরতার মর্মান্তিক ঘটনা যেন দেশবাসী ভুলে না যায় এবং সেইদিন যেন ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের স্মৃতিচারণ করেছেন ওই নির্মম ঘটনার শিকার আহত ও মৃতদের স্বজনরা। অগ্নিসন্ত্রাসের স্মৃতিচারণ করেছেন ওই নির্মম ঘটনার শিকার আহত ও মৃতদের স্বজনরা। এ সময় সন্তানের লাশ দেখতে না পাওয়ার কষ্টের কথা তুলে ধরেন মায়েরা। চোখের সামনে পুড়ে ছারখার হতে দেখা সন্তানকে বাঁচাতে না পারার কষ্টের কথা জানান অসহায় পিতা। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে স্বামীকে কেন পিটিয়ে হত্যা করা হলোসেই প্রশ্ন তোলেন স্বামীহারা স্ত্রী। তাদের আবেগঘন বক্তব্যে ভারী হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে তথাকথিত আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াত চক্রের নৈরাজ্য ও সহিংসতায় ৫শ’র বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার শুধু একটাই আহ্বান থাকবে দেশবাসীর কাছে রাজনীতি করতে চাইলে সুষ্ঠু রাজনীতি করুন, আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমার এই সাধারণ মানুষের গায়ে কেউ হাত দিলে তাদের রক্ষা নেই। আমি শুধু দেশবাসীকে এটুকুই বলব, ঐ দুঃসময়ের কথা যেন কেউ ভুলে না যায়।’ তিনি বলেন, প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি, মেধাবী ছাত্রদের হাতে অর্থ, অস্ত্র, মাদক তুলে দিয়ে বিপথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ’৭৫ এর পর এই ছিল বাংলাদেশ।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর কেবল তারা স্থিতিশীলতা আনতে পেরেছিল। সে সময় শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, উৎপাদন বৃদ্ধি করা তথা দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি তারা করতে পেরেছিল এবং যতটুকু সম্ভব তার সরকার মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এরমধ্যে আগুন সন্ত্রাসের মতো ঘটনা, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।
আগুন সন্ত্রাসীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদের বিচার হচ্ছে, হবে এবং মহান আল্লাহর তরফ থেকেই হবে। হয়তো প্রত্যেক কেসেই (মামলা) বিচার চলছে না। কিন্তু, যারা এ ধরনের অগ্নিসন্ত্রাসে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, অনেকের বিচারের কাজ চলছে, অনেকে শাস্তিও পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা হুকুমদাত্রী বা হুকুমদাতা তাদের কথাও আপনারা ভেবে দেখেন। যারা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারে আর মানুষকে কষ্ট দিতে পারে, আমি জানি না মানুষ কীভাবে আবার এদের পাশে দাঁড়ায়, এদের সমর্থন করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন কেউ ভবিষ্যতে আর ঘটাতে না পারে। কেননা, দলমত নির্বিশেষে এদেশের প্রতিটি মানুষেরই স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। স্বাধীনভাবে নিজ নিজ জীবন-জীবিকার অধিকার রয়েছে। প্রত্যেকের সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার সংরক্ষণ করাটাই আমাদের দায়িত্ব। আর সেটাই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে ‘আগুন সন্ত্রাসের দুর্ভোগ : বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আংশিক দৃশ্যপট’ শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে ঢাকার বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
