টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদেরকে ভোট দিতে আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রথমবারের মতো কোনো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী প্রকাশ্যে মার্কিন নির্বাচনে কোনো দলের পক্ষ নিলেন। সংসদে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মাস্ক রিপাবলিকানদেরকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
মাস্ক সোমবার তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ১১ কোটিরও বেশি অনুসারীর কাছে এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকলে কোনো দলই খুব বেশি বাড়াবাড়ি করতে পারবে না। তাই আমি রিপাবলিকানদেরকে ভোট দেওয়ার জন্য সুপারিশ করছি।’
নির্বাচনের আগের কিছু জরিপেও দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। আর সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মাস্ক গত মাসে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে মাস্কের টুইটার কেনার পেছনে হয়তো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।
বরাবরই বাকস্বাধীনতার পক্ষে ওকালতি করা মাস্কের ইঙ্গিত ছিল, তিনি মালিক হলে টুইটারের খোলনলচে বদলে ফেলবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে টুইটারের নিষেধাজ্ঞাকে মাস্ক খোলাখুলিই ‘চূড়ান্ত বোকামির সিদ্ধান্ত!’ বলে তকমা দিয়েছিলেন।
টুইটারে অবাধ বাকস্বাধীনতা দেওয়া হলে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ফের মার্কিন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। টুইটার ব্যবহার করেই ট্রাম্প ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তার সমর্থকদের উস্কে দিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টে ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলা করিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন এবং ডেমোক্র্যাটরা অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ এবং শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে এমন কোম্পানির তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়িতে কর ছাড়ের প্রস্তাব করায় মাস্ক তাদের ওপর ক্ষেপেছেন। কারণ মাস্কের কারখানায় কোনো ইউনিয়ন নেই। রিপাবলিকানরা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বাইডেন এসব প্রস্তাব পাশ করাতে পারবেন না। আর এ কারণেই মাস্ক চান ট্রাম্পের রিপাবলিকানরাই জয়ী হোক।
আরও পড়ুন...
