নীলফামারীর সৈয়দপুরে বেসরকারি পর্যায়ে গম সংকটে আটা-ময়দা উৎপাদনের ১০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি মিলগুলো শ্রমিক-কর্মচারী ও বাজার ধরে রাখতে ভর্তুকি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১০টি মিল বন্ধ ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে আটা-ময়দা এবং ভুসির খুচরা ও পাইকারি বাজারে। অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। সেই সঙ্গে মিলের প্রায় ৩৫০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
গত শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি আটা-ময়দার মিল আছে। এসব মিলে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ টন চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টন গম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ১০ জন মালিক তাদের মিল বন্ধ করে দিয়েছেন। মিলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম আমদানি বন্ধ থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এখন ভারত থেকে গম বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। তা-ও চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না।
বিসিক শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, চাহিদামতো গম পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন ৩০ টন চাহিদার বিপরীতে ১০ টন গম দিয়ে আটা-ময়দা তৈরি করতে হচ্ছে। বাজার ও কারিগর ধরে রাখতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। গমের সংকট না কাটলে মিল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সৈয়দপুরে যে মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেগুলো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। গমের সংকটের কারণেই হয়তো তারা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। তবে সরকারিভাবে গমের কোনো সংকট নেই।
