প্রশ্নে ‘সাম্প্রদায়িকতা’

তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত ৫ শিক্ষকের বক্তব্য

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৮ এএম

দেশব্যাপী তোলপাড় হওয়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি’র বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের বক্তব্য নিয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষককে বৃহস্পতিবার যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে তলব করা হয়। সকালে তারা শিক্ষা বোর্ডে আসেন। তবে সাংবাদিকদের এড়াতে তারা মিথ্যা পরিচয় দেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানী বলেন, ‘আমরা তাদের বক্তব্য শুনলাম। প্রয়োজনে আবারও ডাকা হবে।

আগামী মঙ্গলবার তদন্তের শেষ দিন। বুধবার আমরা তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেব।’

তিনি জানান, তার কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অভিযুক্ত পাঁচ কলেজ শিক্ষকের বক্তব্য নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলেননি কমিটি প্রধান।

সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে অভিযুক্ত পাঁচ জন সঙ্গোপনে আসেন এবং চলে যান। গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নিজেদের আড়াল করে তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে ঢোকেন। বের হওয়ার সময়ও একই পন্থা অবলম্বন করেন। দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন প্রশ্নপত্র তৈরিকর্তা ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। এই প্রতিবেদক তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যা বলার তদন্ত কমিটির কাছে বলেছি। আর কিছু বলার নেই।’ বলেই তিনি শিক্ষা বোর্ড ত্যাগ করেন।

এরপর একে একে প্রশ্নপত্র পরিশোধনকারী দলের চার সদস্য বেরিয়ে আসেন। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে অভিযুক্ত সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুর রহমান বেরিয়ে আসেন। এই প্রতিবেদক তার নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কথা বলতে চাননি। কিছু সময় পরে বলেন, ‘আমার নাম পরাগ আমি অন্য কাজে এসেছি।’ কাজটি কী সেটি তিনি বলতে চাননি।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বেরিয়ে আসেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনিও শফিকুর রহমানের পথ অনুসরণ করেন। নিজেকে আব্দুস সবুর পরিচয় দেন। তিনিও বলেন, ‘আমি অন্য কাজে এসেছি। আমার নাম জেনে কী হবে?’

শফিকুর রহমান ও রেজাউল করিমের পথ অনুসরণ করেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সরকারি অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দিন শাওন ও মীর্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ।

তদন্ত কমিটির প্রধান কে এম রব্বানী জানান, ‘কমিটির অপর দুই সদস্য শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্র্শক মদন মোহন দাশ ও বিদ্যালয় পরিদর্শক সিরাজুল ইসলামও সে সময় উপস্থিত ছিলেন।’ 

উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্রের ১১ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। প্রশ্নে বলা হয়, নেপাল ও গোপাল নামের দুই ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই নেপাল তার বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামের একজনের কাছে একাংশ জমি বিক্রি করে দেন। আব্দুল সেই জমিতে বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং কোরবানির ঈদে  সেখানে গরু কোরবানি দেন। এতে জমি বিক্রেতা ভাইয়ের মন ভেঙে যায়। তিনি জমিজমা সব ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত