খেরসনে ফাঁদের ভয় ইউক্রেনের

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৬ পিএম

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর খেরসনই ছিল রাশিয়ার দখলে থাকা সবচেয়ে বড় শহর। অথচ যুদ্ধের আট মাসের মাথায় সেখান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাশিয়া। গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সেনা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আলজাজিরা বলছে, ক্রেমলিন হুট করে খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি। রাশিয়া যে সৈন্য সরিয়ে নিতে যাচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই তা নিয়ে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছিল। গত আগস্ট মাসে ইউক্রেনের সেনারা দিনিপার নদীর তীরের কয়েক ডজন গ্রাম ও শহর থেকে রুশ সেনাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনের সেনারা এখন তড়িঘড়ি শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে না। রুশ বাহিনীর পিছু হটাকে আদতে একটা ফাঁদ বলে মনে করছেন ইউক্রেনীয় বিশ্লেষকরা।

খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রসদ সরবরাহের লাইন খোলা রাখতে অসুবিধার মধ্যে রুশ সেনাদের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে শহরটি ছেড়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়া শীর্ষ জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিন রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুকে খেরসন শহর থেকে রুশ সেনা সরিয়ে নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, খেরসন শহর নিয়ে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নির্ভর করবে সামরিক-কৌশলগত পরিস্থিতি কেমন দাঁড়ায় তার ওপর, এখন এটা (ধরে রাখা) সহজ নয়। রুশ জেনারেলের ওই বক্তব্যের পর ক্যামেরা শোইগুর দিকে ঘুরে যায়; তখন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সুরোভিকিনের পর্যালোচনার সঙ্গে একমত হন এবং দিনিপার নদীর অপর পাশে সৈন্য সরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে ইউক্রেনের সমর বিশেষজ্ঞ ওলেহ ঝানভের ধারণা, রুশ বাহিনীর পিছু হটা আদতে একটা ফাঁদ। ইউক্রেনীয় সেনারা সেই ফাঁদে পা দিলে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। রুশ সেনারা বেসামরিকের ছদ্মবেশে খেরসনের আবাসিক এলাকায় লুকিয়ে থেকে ইউক্রেনের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে পারে। ওলেহ ঝানভ বলেন, অথচ ক্যামেরায় মনে হবে বেসামরিকরা ইউক্রেনের সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সহযোগী মিখাইলো পোদোলিয়াকের ভাষ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত না খেরসনে ইউক্রেনের পতাকা উড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রুশ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কথা বলা অর্থহীন। পশ্চিমা অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞও তার সঙ্গে একমত। জার্মান বিশ্লেষক নিকোলাই মিত্রোকিনের আশঙ্কা, শহরটি থেকে রুশ সেনাদের চলে যাওয়ার ফলে দিনিপারের বাম পাশ থেকে নির্বিচারে তীব্র গোলাবর্ষণ দেখা যেতে পারে। বাম তীর থেকে গোলাবর্ষণ করে তারা সহজেই পুরো শহরকে ধ্বংস করে দিতে পারে, যেমনটা তারা খারকিভে করেছে বলেছেন ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ মিত্রোকিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত