ফের গুম-খুন শুরু করেছে সরকার: রিজভী

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০১ পিএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকার শেষ সময়ে ফের গুম-খুন শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী পরিচয়ে নেতাকর্মীদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব করে সরকার পতনের আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। বরং অবৈধ সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা ধ্বজাধারীরা সরকারের প্রাইভেট বাহিনীর ভূমিকা পালনে ব্যস্ত। সারাদেশে বিভিন্ন জনপদে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে দিয়ে তারা খুনি বাহিনী তৈরি করেছে। এদেরই হাতে গত শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাতে নিহত হয়েছেন বাগেরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম ভুইয়া তানু। গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে।’

শনিবার (১২ নভেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও অপকীর্তির শেষ নেই। বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে ওরা রক্তাক্ত পথে হাঁটছে। এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে আওয়ামী দুষ্কৃতিকারীরা বাগেরহাট শহরে তানুকে হত্যা করেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের হত্যার বীরত্বে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী দারুণ উল্লসিত ও উত্তেজিত।

তিনি বলেন, ১৪ বছরে পিলখানায় বিডিআর হত্যা থেকে শুরু করে সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিকসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হত্যার কমতি করেনি আওয়ামী লীগ। যাদেরকেই তারা সরকারের বিরোধী মনে করে তাদেরকেই ধরাতল থেকে অদৃশ্য করতে দ্বিধা করে না। তানুকে হত্যা তারই ধারাবাহিকতা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বিচারে গ্রেপ্তার, ব্যাপকভাবে নির্যাতন, নারকীয় অত্যাচার এবং ভয়ঙ্কর আতঙ্ক সৃষ্টিকারী গুমের নীতির ওপর দেশ চালাচ্ছে অবৈধ সরকার। এক শ্বাসরুদ্ধকর গুমোট পরিবেশের মধ্যে গোটা জাতি হাঁসফাঁস করছে। দেশে এখন জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সরকার গুমের মতো একটি অমানবিক পন্থা চালু রেখেছে। শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের রামু থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইউসুফ বিন জলিলসহ তার সাথে থাকা বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের। প্রথমে অস্বীকার করলেও শনিবার সকালে ডিবি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরিদপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে রাজবাড়ী, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের খুঁজতে বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। গোপালগঞ্জ থেকে ফরিদপুরগামী এবং ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী বাস বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ শনিবার সকাল থেকে ফরিদপুর মোবাইলের সব নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) থেকে ফরিদপুর শহরে সমাবেশস্থলে মানুষ আসতে শুরু করে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নরসিংদী জেলাধীন সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি মেম্বার ইমাম হাসানের বাড়ি থেকে বোমা ও গান পাউডারসহ বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পাওয়া গিয়েছিল। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের না ধরে স্থানীয় বিএনপির নেতা কাইয়ুম সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।’

এদিকে, তানু হত্যা ও ফরিদপুরে সমাবেশে বাধা হামলার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড় ঘুরে বিক্ষোভ মিছিলটি আবার নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে আরও অংশ নেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত