মাইক্রোফোন হাতে ইয়ান বিশপ ছিলেন। মাঠে বেন স্টোকসও ছিলেন। যার নামটা মনে রাখতে বলেছিলেন বিশপ, সেই কার্লোস ব্র্যাথওয়েট অবশ্য ছিলেন না। ইংরেজরা আবেগ উচ্ছ্বাস প্রকাশে সংযত বলেই হয়তো নাসের হুসেইন স্টোকসের নামটা অত জোরালো স্বরে উচ্চারণ করলেন না। মিডউইকেটে বল ঠেলে একটা রান নিয়ে স্টোকস যখন নিশ্চিত করলেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়, নাসের শুধু বললেন- ইডেনের শাপমোচন হলো মেলবোর্নে।
বেনজামিন অ্যান্ড্রু স্টোকস, এই তিনটা শব্দ এখন ইংল্যান্ড দলে ভরসা, নির্ভরতা আর বিশ্বাসের প্রতিশব্দ। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে রান তাড়ায় সেই ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস, অ্যাশেজে জ্যাক লিচকে নিয়ে লিডসে শেষ উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো এবং মেলবোর্নে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের আগুনে বোলিং সামলে হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া। বেন স্টোকস শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকা মানে জয়ের নিশ্চয়তা।
অথচ ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে, শেষ ওভারে ১৯ রান আটকাতে পারেননি, ব্র্যাথওয়েট টানা চার ছক্কায় ২৪ রান নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পরের বছর পানশালায় মারামারির ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন, যেতে হয়েছিল আদালতেও। ডুবতে বসা ক্যারিয়ারটা বাঁচিয়ে তুলেছেন পারফরম্যান্সের জোরে। নিজেকে মেলে ধরেছেন বড় মঞ্চে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ, অ্যাশেজ এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। স্টোকস নিঃসন্দেহে ঢুকে গেছেন অলরাউন্ডারদের সর্বকালের সেরার তালিকায়।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হাফসেঞ্চুরি, সেটাও এমসিজিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে। আরও একবার স্টোকস-সুলভ ইনিংস খেলার পর এই অলরাউন্ডার মাইক আথারটনের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘ফাইনালে, যখন রান তাড়া করছি তখন আসলে পেছনে কত পরিশ্রম করে এসেছি সব ভুলে যেতে হয়। বোলাররা ওদের (পাকিস্তানকে) ১৩০ রানের ভেতর আটকে দিয়েছিল, ওদের অনেক কৃতিত্ব দিতেই হবে। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকেই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অঘটনটা যখন ঘটে গেল, তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে ব্যাপারটা আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। আমাদের পক্ষে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বাড়তি বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। সেরা দলগুলো যে কোনো অঘটনকে বুক পেতেই নেয় আর পরের চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হয়।’
২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল নাকি এবারের ফাইনাল, কোনটাকে এগিয়ে রাখবেন সেই প্রশ্নে অবশ্য কূটনৈতিক উত্তরই দিয়েছেন স্টোকস, ‘এটাও ভালো ছিল...।’
ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উঠেছে ৩ উইকেট নেওয়া স্যাম কারানের হাতে। পুরস্কার হাতে নিয়ে কারানই বললেন, স্টোকসই যোগ্য এই পুরস্কারের জন্য, ‘আমার মনে হয় না আমি এই পুরস্কারের যোগ্য, স্টোকসি যেভাবে খেলেছে তাতে ওরই পুরস্কারটা পাওয়া উচিত। লোকে তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলে কিন্তু তাকে নিয়ে কোনো প্রশ্নই তোলা উচিত নয়। সেই আসল মানুষ।’
