বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখনো সেই অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচন এখনো ১৪ মাসের কাছাকাছি বাকি। এই ১৪ মাসে হয়তো অনেক কিছু পরিবর্তন হবে। বিশ্বে পরিবর্তন হবে, দেশেও হবে, এমনকি রাজনীতিতেও হবে।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান এসব মন্তব্য করেন।
নির্বাচনে সবার জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ তৈরি করাটাই হলো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ, এ কথা উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওইদিকেই নজর দেব। কীভাবে ওটা করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেব বেশি। এটা যদি সবাই না পায় তাহলে তো ভোটের পরিবেশ থাকবে না। শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের এ প্রচেষ্টা থাকবে। সব দলকে আনাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সফল হব কি না জানি না।’
গত সাড়ে আট মাসে আপনাদের প্রতি বিরোধী দলগুলোর আস্থা বেড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি বিরোধী দলের কাছে যেতে পারছি না আমাদের সীমাবদ্ধতার জন্য। সরকারের কাছে যেতে পারছি না। কাজ করতে এখনো বাধার সম্মুখীন হইনি। সে জন্য বলেছি সরকার থেকে চাপ পাইনি।’
বিরোধী দলের ইভিএম নিয়ে আপত্তি কিছুটা কমে গেছে, তার এ ধারণার কথা উল্লেখ করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে যারা বলেন তারা জেনে বলেছেন, এটা আমি মনে করি না। তাদের বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসতে বলছিলাম। সেটা নিয়ে এলে ভুলটা থাকত না।’ তিনি মনে করেন, ইভিএম নিয়ে যে শঙ্কা আছে তা দূর হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে থাকতে হবে উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘মাঠে না থাকলে তো খেলা হবে না। মাঠে না এসে তো কেউ বলতে পারবে না নির্বাচনের পরিবেশ নেই। আমাদের আশা থাকবে, সব দলের রেফারি হিসেবে আমরা থাকব। সব পক্ষ নিয়েই ভোটের মাঠে থাকব।’
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এ কমিশনে পাঁচজনই আশাবাদী সবাই নির্বাচনে আসবে। নির্বাচনে অনেক রকম ক্যালকুলেশন হয়। সেই ক্যালকুলেশন এখনো বাকি আছে। দল জোটবদ্ধ হবে। বিভিন্ন রকমের হবে ছোট দল, বড় দল। নির্বাচন যত কাছে আসবে ততই বিষয়টি ঘনিয়ে আসবে। আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন অনেক রকম পোলারাইজেশন হয়।’
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রকল্প থমকে যায়নি। পরিকল্পনা কমিশন টেকনিক্যাল কমিটির স্বাক্ষর সংবলিত কাগজ চেয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তারা (ইসি) গত সপ্তাহে বসেছিলেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনো যথেষ্ট সময় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি যদি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না প্রকিউরমেন্ট বাস্তবায়নের জন্য। বাজেট কাট-ছাঁট হবে না, সেরকম কোনো ইঙ্গিত ইসি পায়নি। এটা একান্তই সরকারের সামর্থ্যরে ওপর নির্ভর করে। যদি কাটছাঁট করতে চায় সে ক্ষেত্রে যেরকম অর্থ পাওয়া যাবে সেরকমই সংগ্রহ করবে ইসি। জনবলের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়টি এখনো অপেক্ষমাণ আছে বলে জানান তিনি।
দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কি না জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের হাতে যা আছে সেটা নিয়ে করব। আমরা বলেছিলাম অনূর্ধ্ব ১৫০ আসনে ভোট করব। যদি অনুমোদন না হয়, যেটা আছে সেটা নিয়ে প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নেব।’
সরকারও তো ইভিএম চায়, তাহলে ধীরগতি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা অফিশিয়ালি তেমন কিছু জানি না, কাজেই জটিলতার কথা বলব না। সরকারি প্রক্রিয়ায় একটু লম্বা পথ। তবে এটুকু শুনেছি, তারা সভার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মানে ইতিবাচক। প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) তাই বলেছেন।’
