গত কয়েক মাসে দফায় দফায় সয়াবিন তেল ও চিনির দাম বাড়ানো হচ্ছে। সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার আরেক দফা দাম বাড়ানো হলো। এর মধ্যে বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ানো হয়েছে ১২ টাকা। চিনির দাম কেজিতে বাড়ানো হয়েছে ১৩ টাকা।
আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সয়াবিন তেল ও চিনির দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটি প্রস্তাবে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন দাম সমন্বয় করেছে, যা কার্যকর হয়েছে গতকাল থেকেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯০ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ধরা করা হয়েছে ৯২৫ টাকা। এ ছাড়া লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭২ এবং পাম তেলের দাম ১২১ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে কেজিতে ১৩ টাকা বাড়িয়ে প্যাকেটজাত চিনির দাম ঠিক করা হয়েছে ১০৮ টাকা। আর প্রতি কেজি খোলা চিনি কিনতে হবে ১০২ টাকায়।
গত অক্টোবরে খোলা চিনি ৯০ ও প্যাকেটজাত ৯৫ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। তার রেশ না কাটতেই ৪ নভেম্বর প্যাকেটজাত চিনির দাম ৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নভেম্বরেই ফের চিনির দাম ১২ টাকা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হলো। অর্থাৎ দুই মাসে তিনবার চিনির দাম বাড়ানো হলো।
তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ভোজ্য তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে সমন্বয় করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১ নভেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে মূল্য সমন্বয়ের আবেদন করা হয়। মিলমালিকরা লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে দুই দফায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড কমিশনের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। দাম সমন্বয়ে সম্মত হয় কমিশন।
চিনির দাম বাড়ার বিষয়ে সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, গত ৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে মূল্য সমন্বয়ের আবেদন করা হয়। পরে দুই দফায় ট্রেড অ্যান্ড কমিশনের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সম্মত হয় কমিশন।
চলতি মাসের প্রথমেই দাম বৃদ্ধির আবেদন করা হলে ট্যারিফ কমিশনকে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য নির্দেশনা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী দাম প্রস্তাব হলে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে কোনো দাম নির্দিষ্ট করা হয়নি। ফলে দাম কার্যকর না করায় তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।
৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চিনির বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশি প্যাকেটজাত এক কেজি চিনির দাম ৮৫ থেকে বাড়িয়ে ৯৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো বিক্রেতা এর থেকে বেশি দামে দেশি চিনি বিক্রি করতে পারবেন না।
এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৬ অক্টোবর খোলা চিনি ৯০ ও প্যাকেটজাত ৯৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু বাস্তবে নির্ধারণ করে দেওয়া কোনো দামই কার্যকর হয়নি। উল্টো সরবরাহ ঘাটতির উল্লেখ করে দাম ক্রমে বেড়ে চলেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোতে ৩০ হাজার টন চিনি উৎপন্ন হয়। বাকি চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
