অভিনয়ের ক্ষুধা শিল্পীকে মঞ্চে টেনে আনে

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৫ এএম

মঞ্চনাটক ‘রাঢ়াঙ’ ২০০তম প্রদর্শনীর মাইলফলক স্পর্শ করল গতকাল। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে উৎসবের আয়োজন করে নাট্যদল আরণ্যক। কথা বলেছেন দলটির প্রধান এবং ‘রাঢ়াঙ’-এর নাট্যকার-নির্দেশক মামুনুর রশীদ

দীর্ঘ যাত্রা...

২০০৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রথম মঞ্চে আসে ‘রাঢ়াঙ’। ১৮ বছর পেরিয়ে গেল। এর মধ্যে আরও ২৪টি প্রযোজনা মঞ্চে এনেছে আরণ্যক। তারই ফাঁকে ফাঁকে ৫০, ১০০, ১৫০ মঞ্চায়নের ধাপ ছাড়িয়ে ২০০তম প্রদর্শনী। অবশ্যই এটি আনন্দের, অন্য রকম ভালো লাগার। কারণ এখন কোনো নাটকের শতাধিক মঞ্চায়ন সেভাবে চোখে পড়ে না। কল শো নেই বললেই চলে। মঞ্চেরও সংকট। এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে ‘রাঢ়াঙ’ নাটকের ২০০তম প্রদর্শনী হচ্ছে এটি শুধু একার নয়, আরণ্যক নাট্যদলের সবার জন্যই আনন্দের। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই আমাদের দুই দিনের উৎসবের আয়োজন করা।

মাইলফলকের আয়োজন...

গতকাল সকাল ১০টায় জাতীয় নাট্যশালার সেমিনারকক্ষে ছিল সেমিনার। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মেসবাহ কামাল। বিকেল ৪টায় পরীক্ষণ থিয়েটার লবিতে ছিল আরণ্যকের সাবেক সদস্যদের সম্মিলনী। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশেই উদযাপিত হয় ‘রাঢ়াঙ’-এর ২০০তম মঞ্চায়ন। সারা দিন আরণ্যকের সবাই আমরা একসঙ্গে ছিলাম। চঞ্চল চৌধুরী, আ খ ম হাসান, শামীম জামানসহ শোবিজের বেশকিছু জনপ্রিয় মুখ অভিনয় করেছে বিশেষ এই প্রদর্শনীতে, শুরুতে যারা এ নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিল। শিল্পের ক্ষুধা থেকেই তারা মঞ্চে ফিরেছেন। মঞ্চের প্রতি তাদের অমোঘ আকর্ষণ আছে। বিশেষ করে যে কাজগুলোর সঙ্গে তারা নিবেদিত ছিলেন। তাই তাদের ফিরে আসায় অবাক হইনি। অভিনয়ের ক্ষুধা আসলে এভাবেই টেনে আনে।

প্রেক্ষাপট...

‘রাঢ়াঙ’ আরণ্যকের ৪০তম প্রযোজনা। ‘রাঢ়াঙ’ সাঁওতালি শব্দ; এর অর্থ দূরাগত মাদলের ধ্বনিতে জেগে ওঠার আহ্বান। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যারা প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাদের মধ্যে সাঁওতালরা অন্যতম। ১৯৪৯ সালে নাচোলের বিদ্রোহে পরাস্ত হলে সাঁওতালদের জীবনে নেমে আসে বিশৃঙ্খলা। কেউ কেউ জেলবন্দি হয়, কেউ কেউ হয় ফেরারি। একটা সময় বিশ্বম্ভরের সহযোগিতায় নাচোল থেকে নওগাঁর ভীমপুরে চলে আসে তারা। ঘর হবে, নিজস্ব জমি হবে এ-ই বলে তাদের স্বপ্ন দেখায় বিশ্বম্ভর। কিন্তু তা আর হয় না। বিশ্বম্ভর মারা যায়। সাঁওতালদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘকাল কেটে যায়। ২০০০ সালে এসে আলফ্রেড সরেনের নেতৃত্বে ভূমির অধিকার নিয়ে আবারও জেগে ওঠে সাঁওতালরা। কিন্তু সরেনকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এসব বিষয় উঠে এসেছে নাটকে।

সৃষ্টির নেপথ্যে...

আলফ্রেড সরেন মারা যাওয়ার পর আমি নওগাঁ গিয়েছিলাম। ওখানে সাঁওতালরা আমাকে তীর-ধনুক উপহার দিয়ে অনুরোধ করেছিল আলফ্রেডকে নিয়ে নাটক লিখতে। আমি ইমোশনালি কথা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি তো ওদের জীবন সম্পর্কে অতটা জানি না। যখন নাটকটা করার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন মনে হলো অনেক বেশি গবেষণা দরকার। প্রায় চার বছর ওদের সঙ্গে মিশে তথ্য জেনে তারপর নাটকটি লিখলাম ও পরিচালনা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত