বিএনপির কুমিল্লার বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় রফিকুল ইসলাম নয়ন নামে এক ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ওই ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলাম নয়ন (২২) বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং একই ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামের রহমতউল্লাহর ছেলে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, নয়ন পুলিশের গুলিতে আহত হন। তবে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। নয়ন কার গুলিতে আহত হন তা তদন্ত করে দেখা হবে।
জানা গেছে, গতকাল দুপুরের পর থেকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক ভিপি ও বাঞ্ছারামপুর বিএনপির একাংশের নেতা সাইদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা লিফলেট বিতরণ ও মিছিল করতে থাকেন। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ি মসজিদের সামনে পুলিশ মিছিলকারীদের বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ করতে থাকেন পুলিশের ছোড়া গুলি ছাত্রদল নেতা নয়নের পেটে লেগেছে। তাকে তৎক্ষণাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়াকে গতকাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা বন্ধু সোলাইমান ও প্রতিবেশী চাচাতো ভাই মো. সজীব অভিযোগ করে বলেন, কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশ উপলক্ষে তারা বাঞ্ছারামপুরে লিফট বিতরণ করছিলেন। তাদের সঙ্গে দুই থেকে আড়াইশ নেতাকর্মী ছিলেন। বাঞ্ছারামপুর থানা সংলগ্ন মোল্লাবাড়ি নতুনব্রিজে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে খুব কাছ থেকে শটগান দিয়ে গুলি করে পুলিশ। গুলি নয়নের পেটে লাগে। নয়ন ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঢামেক হাসপাতালে বিএনপির নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক (সংযুক্ত) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণকালে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নয়ন মারা গেছেন। এ ছাড়া প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ছাত্রদল নেতা নয়নের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করতেন নয়ন।
বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরপর বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘আমরা কুমিল্লার মহাসমাবেশের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে লিফলেট বিতরণ ও মিছিল করছিলাম। পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। তাদের গুলিতে আমাদের কর্মী নয়ন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনা অনুমতিতে মিছিল করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছিল। আমরা মিছিল শেষ করার কথা বললে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছি। নয়ন কার গুলিতে বিদ্ধ হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’
