সংবিধানের বাইরে একচুলও সরবে না সরকার এবং আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে এমন অনড় অবস্থানের বার্তাই পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। গতকাল শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
তারা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধানের বাইরে কারও কোনো দাবিও মানা হবে না। অসাংবিধানিক দাবি নিয়ে আন্দোলনে তিনি ভয় পান না। যে যত বড় আন্দোলনই করুক সফল হবে না। উপদেষ্টা পরিষদের ওই সদস্যরা বলেন, বেশ আত্মবিশ^াসের সঙ্গে কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করার দাবিও জানিয়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। এই সমাবেশ ঘিরে ইতিমধ্যে দুই দলের কথার লড়াই চলছে। গতকাল আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উপদেষ্টাদের ওই রুদ্ধদার বৈঠক হয়। বৈঠকের পর উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
তারা জানান, সরকারপ্রধান বলেছেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে কারও কোনো আলোচনার প্রস্তাবও সফল হবে না। এ ব্যাপারে তার একটাই বক্তব্য, নির্বাচন হবে সংবিধান সম্মতভাবে। অবৈধ কোনো দাবির পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলনের নামে সহিংসতা-নাশকতার চেষ্টা করলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। সংবিধানসম্মত যৌক্তিক দাবি করা হলে শেখ হাসিনা তা মেনে নেবেন।
ক্ষমতাসীন দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করে তুলতে তার সরকার নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে। দলের সবাইকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেন এমন যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের গুজব মোকাবিলায় সতর্ক থাকার বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেছেন, দেশীয়-আন্তর্জাতিক চক্রের একটাই লক্ষ্য গুজব সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা।
বৈঠকে বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি ও বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের লাগামহীন বক্তব্যের সমালোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’এই নীতিতে তার সরকার চলছে, আগামীতেও চলবে। উপদেষ্টারা বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতদের আরও সক্রিয় করে তোলা ও দক্ষ কূটনীতিকদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিলে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো করা হচ্ছে।
ওই উপদেষ্টারা জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশিরা যখন বাংলাদেশের ব্যাপারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে তারাও ওইসব দেশের অমানবিক-অগণতান্ত্রিক ব্যাপারগুলো তুলে ধরে তাদের চাপে রাখার পথে হাঁটতে পারেন। তবে তা হতে হবে রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বুটের তলায় যখন জনগণকে নিষ্পেষিত করে তখন অমানবিক হয় না?
দেশের টাকা বিদেশে পাচারের যে অভিযোগ রয়েছে তা নিয়ে উপদেষ্টারা আলোচনা করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা কারা? চিহ্নিত করুন। অবশ্যই টাকা ফেরত আনা হবে, শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে অপরাধীদের।
বিএনপির হুমকিধমকি ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ১০ লাখ লোকের সমাবেশ করবে। অথচ তারা অনুমতি চেয়েছে পল্টন ময়দানে! সেখানে তো ১০ লাখ লোক ধরবে না। ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটাতে চাইলে তো ঢাকার বাইরে বহু জায়গা আছে। পূর্বাচল আছে। তিনি আরও বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিএনপি কর্মসূচি পালন করতে গেলে কোনো বাধা দেব না। তাদের বিভাগীয় সমাবেশ চলছে আওয়ামী লীগ কোথাও বাধার সৃষ্টি করছে না। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে এবং তাতে বিশ্বাসও করে।
