জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরন্ত বিপ্লব (৫১) খুন হননি, তিনি লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল শনিবার রাতে পিবিআইয়ের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো বার্তায় এমন তথ্য জানানো হয়। পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাফিন মাহমুদের বরাত দিয়ে ওই বার্তায় বলা হয়, লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয় দুরন্ত বিপ্লবের। তদন্ত সংস্থাটির প্রাথমিক ছায়া তদন্তে জানা গেছে, এ তথ্য। তবে পরিবারের সন্দেহ, খুন হতে পারেন বিপ্লব।
নৌকাডুবির ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে তা বিশ্বাস করতে চান না দুরন্তের ছোট বোন শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘নৌকাডুবির স্পট যেখানে বলা হচ্ছে, সেখানে আমার ভাইয়ের যাওয়ার কথা না। প্রথম থেকেই পুলিশ নৌকাডুবি বলে চালানোর চেষ্টা করছে।’ ৭ নভেম্বর কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে বের হন বিপ্লব। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। ৯ নভেম্বর ভাইয়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বোন শাশ্বতী বিপ্লব। ১২ নভেম্বর বুড়িগঙ্গার পানগাঁও এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্য গিয়ে সেটি দুরন্ত বিপ্লবের মরদেহ বলে শনাক্ত করে।
সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে আজ রবিবার সংবাদ সম্মলন করে ডিবি কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, দুরন্ত বিপ্লবের মৃত্যুর বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বেলা সাড়ে ১১টায় বিস্তারিত জানাবেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুরন্ত বিপ্লব ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে কেরানীগঞ্জের বড় বাকতার এলাকার নিজের খামার থেকে বের হয়ে কদমতলীর সড়কে ওঠেন। নূর ফিলিং স্টেশনের সামনে দিয়ে তিনি সাদা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় হেঁটে কোনাখোলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্টেশনে যান। নূর ফিলিং স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এ দৃশ্য ধরা পড়েছে। এরপর তিনি ৪টা ৫৫ মিনিটে কোনাখোলা থেকে বিলাল নামে এক চালকের অটোরিকশায় উঠে বসেন। বিলাল তার পূর্বপরিচিত। অটোরিকশাটি নিয়ে তিনি ৫টা ১৭ মিনিটে জিঞ্জিরা ফেরিঘাটে যান। ফেরিঘাটে নেমে তিনি হেঁটে বটতলা ঘাটের দিকে আসেন। বটতলা ঘাট থেকে শামসু মাঝি (৬৫) নামে একজনের নৌকায় ওঠেন। নৌকাটিতে আরও চারজন যাত্রী ছিলেন। বটতলা ঘাট থেকে সোয়ারীঘাট সোজা বুড়িগঙ্গার নদীর দুই-তৃতীয়াংশ আসার পর মাগরিবের আজানের আগে ৫টা ২৯ মিনিটে মর্নিং সান-৫ নামে একটি লঞ্চ নৌকাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নৌকাটি উল্টে যায়। পরে অন্য নৌকার কয়েকজন মাঝি মিলে উদ্ধারকাজ চালান। তারা চার যাত্রী ও শামসু মাঝিকে নদী থেকে তুলতে সক্ষম হন। তবে ডুবে যাওয়া নৌকাটির আরেক যাত্রীকে তারা খুঁজে পাননি।
