বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতাকে বৈধতা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত থাকছে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নিপুণের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের ফলে সমিতিতে সাধারণ সম্পাদক পদে আপাতত নিপুণের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করীম ও নাহিদ সুলতানা যুথী। নিপুণ আক্তারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।
জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্থগিত করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের দায়িত্ব পালনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে আদেশ দেয় আদালত। রুলে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চায় হাইকোর্ট। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা দেয়। এরপর নিপুণের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আদেশে হাইকোর্টের দেওয়া ওই আদেশের ওপর চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে স্থিতাবস্থার আদেশ চলমান থাকবে বলে আদেশ দেয়। নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক করে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত গত ২ মার্চ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নিপুণ। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে।
নিপুণের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেয়েছি। আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করেছে। তাই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ রায় স্থগিত থাকবে এবং সম্পাদক পদে নিপুণের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
