কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের এনার ভ্যালেন্সিয়া তৃতীয় মিনিটেই বল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন স্বাগতিক কাতারের জালে। কিন্তু রেফারি গোলটা বাতিল করে দেন অফসাইড হিসেবে। এবারের বিশ্বকাপে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’, যার ফলে মাঠের লাইনসম্যানদের চোখ এড়ালেও ধরা পড়বে অফসাইড।
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক কখন অফসাইড হয়। ফিফার নিয়ম বলছে, যখন কোনো খেলোয়াড়ের মাথা, শরীর অথবা পা বল এবং প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় শেষ খেলোয়াড়ের আগে থাকবে তখন অফসাইড হবে। সেমি-অটোমেটেড প্রযুক্তি ত্রিমাত্রিক ছবির মাধ্যমে মাঠের খেলার অফসাইড ধরবে এবং সেটা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দলকে জানান দেবে।
সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিনটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ম্যাচের ২২ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলটা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, সেটা অবশ্য লাইন্সম্যান সাদা চোখেই দেখেছিলেন এবং পতাকা তুলে রেখেছিলেন। সৌদি আরবের রক্ষণ ছিল ‘হাই-লাইন’, তাদের অফসাইডের ফাঁদে পড়েছিলেন মেসি, সে কারণেই বল জালে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি ‘এলএমটেন’। দ্বিতীয় যে গোলটা অফসাইডে বাতিল হয়েছে, সেজ্য নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন লাউতারো মার্তিনেজ। হয়তো প্রযুক্তির এত সূক্ষ্ম ব্যবহার না থাকলে খালি চোখে ধরাই যেত না আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড যে অফসাইডে ছিলেন। সৌদি রক্ষণের শেষ খেলোয়াড়টির পাশে দাঁড়িয়ে একটু ঝুঁকে ছিলেন মার্তিনেজ। ত্রিমাত্রিক ছবিতে দেখা যায়, ঝুঁকে যাওয়াতে মার্তিনেজের কাঁধ ছাড়িয়ে যায় পেছনে থাকা সৌদি ডিফেন্ডারকে। অফসাইডের আইনে হাত (কনুইর গোড়া পর্যন্ত) অন্য খেলোয়াড়কে ছাড়িয়ে গেলেও অফসাইড হবে না, কিন্তু শরীর ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এই অফসাইড ধরেছে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি। যন্ত্রের চোখে নিয়ম হচ্ছে, জার্সি ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে না। মার্তিনেজের ঝুঁকে যাওয়াতে তার জার্সির হাতায় চোখ পড়ে যন্ত্রের, যেটা চলে গিয়েছিল অফসাইড লাইনের বাইরে। তাই সংকেত চলে যায় ভিডিও রেফারি দলের কাছে, ফলে বাতিল হয়ে যায় ২৮ মিনিটে করা মার্তিনেজের গোলটা।
৩৫ মিনিটে আরেকটা গোল করেন মার্তিনেজ, সেটা অবশ্য সহজেই অফসাইড হিসেবে ধরা পড়ে লাইনম্যানের চোখে। মেসির পাস পেয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে ছুটেছিলেন মার্তিনেজ, সৌদি রক্ষণের পেছনে থেকে বল রিসিভ করে গোল করেন এই আর্জেন্টাইন কিন্তু সেটাও বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে।
ম্যাচের ২২ মিনিট, ২৮ মিনিট ও ৩৫ মিনিটে এই তিনটা গোল বাতিল হয় আর্জেন্টিনার। এরপর আর বৈধ বা অবৈধ কোনো রকম গোলই করতে পারেনি আর্জেন্টিনা, বরং জোড়া গোল হজম করে হেরে বসে সৌদি আরবের কাছে।
