এক ডোজ থেরাপি ৩৫ কোটি টাকা

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০১:০৭ এএম

রক্ত জমাট বাঁধায় সমস্যাজনিত একটি গুরুতর রোগের নাম হেমোফিলিয়া। এতে আক্রান্ত  রোগীদের রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না। ফলে কোনো কারণে কেটে গেলে বা অস্ত্রোপচারের সময় রোগীদের শরীর থেকে রক্তপাত বন্ধ হতে চায় না। এটি তাদের মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় বায়োটেক কোম্পানি সিএসএল বেহরিংয়ের হেমোফিলিয়া বি জিন থেরাপির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এফডিএ। থেরাপির নাম হেমজেনিক্স। এটি হেমোফিলিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি নতুন থেরাপি, যা মাত্র একবার নিলেই যথেষ্ট। কিন্তু সেই এক ডোজ নিতে গেলেই খরচ পড়বে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি। আকাশছোঁয়া এই দামের কারণেই এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি থেরাপিতে পরিণত হয়েছে। গবেষণা বলছে, হেমজেনিক্স এক বছরের মধ্যে সম্ভাব্য রক্তপাতের ৫৪ শতাংশ কমাতে সক্ষম। এটি ফ্যাক্টর আইএক্স নামের সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল চিকিৎসাপদ্ধতি থেকে রোগীদের নির্ভরতা কমানোর উপায় হিসেবে সামনে এলো।  বর্তমানে হেমোফিলিয়া রোগীদের সম্ভাব্য গুরুতর অবস্থা নিয়ন্ত্রণে ফ্যাক্টর আইএক্স ইনফিউশন পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে।

বায়োটেকনোলজিতে বিনিয়োগকারী ও লোনকার ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাড লোনকার বলেন, হেমজেনিক্সের দাম যদিও একটু বেশি, তবু আমি মনে করি, এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম কারণ, বিদ্যমান ওষুধগুলোও অনেক ব্যয়বহুল। দ্বিতীয়ত, হিমোফিলিয়া রোগীরা ক্রমাগত রক্তপাতের ভয়ে থাকেন। তাই তারা হয়তো এ থেরাপি বেছে নেবে। 

এ বছরের শুরুর দিকে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় অনুমোদন পাওয়া ব্লুবার্ড বায়োর তৈরি জিনটেগ্লো ওষুধের দাম ধরা হয় প্রায় ২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর আগে শিশুদের ‘স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি’ বা মেরুদণ্ডের ক্ষয়রোগের চিকিৎসায় ২০১৯ সালে নোভারটিসের একটি ওষুধ অনুমোদন পেয়েছিল। ‘জোলগেনসমা’ নামে ওষুধটির দাম সাড়ে ২১ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত