প্রবেশপত্র আটকে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪৫ পিএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রেখে জরিমানার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, আগামী ২৭ নভেম্বর রোববার থেকে সাটুরিয়া উপজেলার সকল মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু হবে বার্ষিক পরীক্ষা। উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। ওই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বছরজুড়ে অনুপস্থিতি ছিল। বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ দেওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বেতন পরিশোধ করতে আসলে তাদের বেতনের চেয়ে জরিমানার টাকা গুণতে হয়েছে দ্বিগুণ। 

চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, একজন শিক্ষার্থী একদিন স্কুলে অনুপস্থিতি থাকলে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা গুণতে হবে। এ সিদ্ধান্ত স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বোর্ড সভায় রেজুলেশন করে পাস করেছেন। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে জরিমানার টাকা নেওয়া হচ্ছে। 

চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফিজুর ইসলাম রোল নম্বর আট। চলতি বছরে তার জরিমানা হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী রিফাতের জরিমানা হয়েছে ৩ হাজার ৫ শত টাকা। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইউনুছ আলীর জরিমানা হয়েছে ৯৫০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্তি ৮০০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করে প্রবেশপত্র পেয়েছে।

এ বিষয়ে চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল বলেন, অত্র বিদ্যালয়ে ৬৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেন যারা বিদ্যালয়ে একদিন অনুপস্থিত থাকে তাদের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা করে জরিমানা দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, এই জরিমানা নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়ানো।

সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়ন নদী ভাঙনে দিশেহারা মানুষ। এই ইউনিয়নকে কালিগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদী তিনভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। তিল্লি ইউনিয়নে দরিদ্রতার হারও বেশি। কাজ করলে ভাত জুটে। কাজ না করলে ভাত জুটে না। বাবা মার সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও কাজ করে থাকে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

এ ব্যাপারে চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জানান, একদিন অনুপস্থিত থাকলে ৫০ টাকা জরিমানা এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য কিছু কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আরা বলেন, চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তবে ম্যানেজিং কমিটি জরিমানার সিদ্ধান্ত নিলে তা নোটিশ করে শিক্ষার্থীদের আগে জানাতে হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত