লাখো জনতার উল্লাস-আনন্দধ্বনি, স্লোগান আর একের পর এক মিছিলে ভোর থেকেই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল পুরো যশোর। একে একে সব মিছিল গিয়ে মিলিত হয় স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। লাখো মানুষের প্রবল জনস্রোতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে যশোর শহরের শামস-উল হুদা স্টেডিয়াম।
ধীরে ধীরে জনতা আশপাশের এলাকা, রাস্তাঘাট ও ফাঁকা জায়গাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার আকারে তৈরি করা মঞ্চে আসার আগেই পুরো নগরী বিশাল এক মানব সমুদ্রে পরিণত হয়।
কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ ২৭ মাসেরও বেশি সময় পর ঢাকার বাইরে এটিই ছিল শেখ হাসিনার সশরীরে প্রথম জনসমাবেশে উপস্থিতি। এই জনসভার মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তার দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
শহরে উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের জনগণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উৎসাহী হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার আগমন শুধু যশোর নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মুগ্ধ করেছে।
‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে এবং রঙিন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন হাতে, রঙিন টি-শার্ট, মাথায় টুপি, হেডব্যান্ড পরে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নির্বাচনী প্রতীক নৌকাসহ জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করে সমাবেশস্থলের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
নারীরা বড় এবং ছোট দলে পাশাপাশি পৃথকভাবে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশদ্বারে হাসিমুখে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করেছিলেন।
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও যশোরের আশেপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী বাস, পিকআপ ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন এবং অনেককে পায়ে হেঁটে সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়।
মণিরামপুর উপজেলা থেকে আসা একদল মানুষ জানান, সামনের সারিতে নিজেদের জায়গা পেতে তারা তাড়াহুড়ো করে জনসভাস্থলে পৌঁছে যান। বিশাল ভিড়ের কারণে, তারা ভয় ছিল যে দেরি হলে তারা সভাস্থলে প্রবেশ করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, যশোর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। ৫০ বছর পর একই মাঠে জনসভায় ভাষণ দিলেন তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর আগে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় সর্বশেষ ভাষণ দেন শেখ হাসিনা।
