দিনাজপুরে একটি বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ঘর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ধসকালে বিরল উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাগোয়া একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ওই শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা সম্পর্কে আপন ভাই।
পরিবারের সদস্যরা ও পুলিশ বলছে, ওই শিশুদের তাদের বাবা বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।
নিহতরা হলো বিরলের শংকরপুর ঘোড়ানীর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে রিমন (০৭) ও ইমরান (০৩)।
নিহত দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে স্ত্রী উম্মে কুলসুমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এক মাস আগে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন কুলসুম। ছাড়াছাড়ির পর থেকে সন্তানদের নিয়ে শরিফুল ও কুলসুমের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কুলসুম দুই সন্তানকে তার কাছে রাখতে চান। কিন্তু শরিফুল এক সন্তানকে দিতে চান। বৃহস্পতিবার রাতে শরিফুল এবং তার দুই ছেলে রিমন ও ইমরান রাতের খাওয়া শেষে শোয়ার ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের ঘরে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ৮টার দিকে শরিফুল মোবাইল ফোনে বাড়িতে কল করে সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন বলে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ঘরে গিয়ে রিমন ও ইমরানের মরদেহ দেখতে পান। তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহত দুই শিশুর দাদি রমিজা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাই পড়ি। ছেলে ও দুই নাতিও ঘুমায় পড়ে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি ছেলে ও দুই নাতি বাসায় নাই। পরে খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাই না। সকালে ছেলে শরিফুল আমাদের ফোন করে বলে, স্কুলে আমার দুই নাতির লাশ পড়ে আছে। পরে আমরা স্কুলে আসলে একটা ভাঙা রুমে বস্তা দিয়ে ঢাকা দেওয়া দুই নাতির লাশ পাই।’
বিরল থানার ওসি রেজাউল হাসান বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে দুই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। ঘরটির বাইরে একটি বিষের বোতল পাওয়া যায়। নিহত দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।’
পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আসলাম উদ্দিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহতদের বাবার খোঁজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
