গানে-আনন্দে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাত

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০১:৪৪ এএম

বিএনপি নেতাকর্মীরা ট্রেন, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবহনে কুমিল্লা নগরীতে এসে জড়ো হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার থেকেই নগরীর টাউন হল মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী এবং সমর্থকের পদচারণায় মুখর গোটা নগরী। আজ শনিবার নগরের টাউন হল মাঠে দলটির বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে নেতাকর্মীরা এসে হাজির হয়েছেন নির্বিঘ্নে।

কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে নগরীসহ আশপাশের এলাকা ও সড়কগুলোতে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সমর্থক অবস্থান নিয়েছেন। টাউন হল মাঠ ছাড়াও ঈদগাহ ও আশপাশের সড়কে অবস্থান করছেন নেতাকর্মীরা। টাউন হলের পশ্চিম পাশে কাপড় ও ত্রিপল বিছিয়ে রাত কাটান জেলা ও উপজেলা থেকে আসা কর্মীরা। গানে গানে আর আনন্দ উল্লাসে মাঠে দিন-রাত অতিবাহিত করেছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। সেখানেই তারা খাওয়া-দাওয়া সেরেছেন। প্যাকেট খাবার সরবরাহ করা হয়েছে তাদের জন্য।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে কুমিল্লায় এ বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। এর আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনাসহ সাতটি বিভাগীয় গণসমাবেশ করেছে দলটি। ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের আগে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করবেন তারা।

বিগত সমাবেশগুলোতে নানামুখী বাধা-বিপত্তি, হয়রানি থাকলেও কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নেতাকর্মী আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা জেলা পরিবহনের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের অবরোধ নেই। কুমিল্লার গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছেন বিএনপি নেতারা।

অপরদিকে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সংসদীয় আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পৃথক পৃথক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। নিজেদের জনসমর্থন জাহির করতে মাঠের চারপাশে নেতারা দুদিন আগেই ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে জায়গা দখল করে রেখেছেন। হোটেল-মোটেলসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভবন, ফ্ল্যাটেও নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন।

টাউন হল মাঠে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার লোকসমাগম করা যাবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীরা নগরীর টাউন হল সংযোগ সড়কগুলোতে অবস্থান করবেন। কুমিল্লা টাউন হল থেকে পুলিশ লাইনস সড়ক, স্টেডিয়াম-ঈদগা সড়ক, রাজগঞ্জ ও টমসম ব্রিজ সড়কে অবস্থান করবেন নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সড়ক-মহাসড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুনে। অলিগলিতে প্রচার মাইক, নেতাকর্মীদের গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণে সরব নগরী।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা স্বাগতিক জেলা, তাই আমরা আলাদা কোনো শোডাউনের প্রস্তুতি নিইনি, আমরা আগত নেতাকর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়া এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যসহ সার্বিক নির্দেশনা শোনার ব্যবস্থা করেছি।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেন, লক্ষাধিক নেতাকর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটবে, তাই টাউন হল মাঠে জায়গা হবে না, আমরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাইক সেটিং করেছি, নগরীর সবকটি পয়েন্ট থেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শোনা যাবে। তিনি বলেন, ‘যারা সমাবেশস্থলে কর্মী-সমর্থক দ্বারা জায়গা দখল করেছেন তারা মৌসুমি রাজনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বিষয়ে অবগত আছেন।’

সমাবেশস্থলে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা। সমাবেশের সব বিষয়ে তদারকি করছেন তারা।

খন্দকার মোশাররফের সংবাদ সম্মেলন : গণসমাবেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মারেননি, টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে। তারেক রহমানকেও মিথ্যা অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে।’ তার অভিযোগ, ফরমায়েশি রায়ে বেগম জিয়া ও তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার দিনের ভোট রাতে নিয়েছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, ব্যাংক লুট করেছে, ব্যাংকে ডলার নেই, এলসি খোলা যাচ্ছে না, এ সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। কুমিল্লায় এ অবৈধ সরকারকে লালকার্ড দেখানো হবে।’

সংবাদ সম্মলনে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

ফাঁকা মাঠ দিলাম, অশান্তি করার চেষ্টা করবেন না

‘সভা-সমাবেশ করা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। শান্তিপূর্ণভাবে কুমিল্লায় সমাবেশ করেন, বিশৃঙ্খলা করবেন না। ফাঁকা মাঠ দিলাম মিটিং করেন, অশান্তি করার চেষ্টা করবেন না, বিএনপির অতীত ইতিহাস ভালো নয়, অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাই কুমিল্লায় বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে জনস্বার্থে তা প্রতিহত করা হবে।’

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বইমেলা ও সাহিত্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এসব কথা বলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত